প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মদনপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী আরিফ
প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন মদনপুরের আরিফের

মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন স্বপ্ন দেখছে প্রকৌশলী হওয়ার। ইচ্ছা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যেকোনো বাঁধাই টপকানো সম্ভব—তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মদনপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন। বর্তমানে সে মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির একজন অত্যন্ত মেধাবী ও নিয়মিত ছাত্র। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশলী) হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করাই এখন আরিফের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

আরিফের পরিবার ও বাবার স্বপ্ন

আরিফের বাবা হেলাল মিয়া পেশায় একজন চৌকিদার। মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি সবসময় সবার আগে এগিয়ে আসেন। নিজের সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার এক বুক স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে আরিফ তার দ্বিতীয় সন্তান।

আরিফের পড়াশোনার প্রতি গভীর মনোযোগ ও মেধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি তাদের বাড়ি পরিদর্শনে যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন। তিনি আরিফের পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে আরিফের বাবা প্রধান শিক্ষককে বলেন, 'আমার সন্তানদের মধ্যে আরিফ অনেক মেধাবী। আমার খুব ইচ্ছা আমি ওকে একজন ইঞ্জিনিয়ার বানাবো।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান শিক্ষকের আশ্বাস

অভিভাবকের এমন মহৎ ইচ্ছা দেখে প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন তাকে অভয় দিয়ে বলেন, 'ইনশাআল্লাহ, আরিফ অত্যন্ত মনোযোগী ছাত্র। সে আপনার মনের আশা অবশ্যই পূরণ করবে।' বাবার স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থী আরিফ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানায়, সে তার বাবার স্বপ্ন পূরণে বদ্ধপরিকর। প্রতিদিন নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করাই এখন তার মূল কাজ। আরিফ বলে, 'সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আমাকে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম আলো ট্রাস্টের ভূমিকা

একই সাথে নিজের শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার পেছনে প্রথম আলো ট্রাস্টের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে আরিফ। সে জানায়, যদি প্রথম আলো ট্রাস্ট এই এলাকায় 'মদনপুর আলোর পাঠশালা' নামক বিদ্যালয়টি স্থাপন না করতো, তবে তাদের মতো অনেক শিশুর পড়াশোনা প্রাইমারি শেষেই ঝরে যেত। শিক্ষার এমন চমৎকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সে প্রথম আলো ট্রাস্টকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানায়।

আরিফের মতো মেধাবী ও স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই বদলে যাবে আমাদের সমাজ। মদনপুর আলোর পাঠশালা এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের এই যৌথ প্রচেষ্টা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণের পথকে আরও সুগম করুক—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীদের।