ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৩.৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু
ড্যাফোডিলে ৩.৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৩.৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু

টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্যারামাউন্ট গ্রুপের সাথে একটি শক্তি ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় ৩.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব শক্তি সমাধান গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা

ওপেক্স মডেলের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী খরচ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি বছরে আনুমানিক ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে, যা প্রায় ৬০০০০ গাছ রোপণের সমতুল্য।

এই সিস্টেমে পানির ব্যবহারের প্রয়োজন নেই এবং কোনো ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ হয় না, তাই এটি একটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। নেট মিটারিং সুবিধার মাধ্যমে প্রকল্প থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ক্রেডিট অর্জন করা যাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ খরচ আরও কমিয়ে আনবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও বক্তব্য

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্যারামাউন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সাবুর খান, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম আর কবির, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, ট্রেজারার হামিদুল হক খান, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাদির বিন আলী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য মোহাম্মদ এমরান হোসেনসহ ডীন, বিভাগীয় প্রধান ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্যারামাউন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাথে এই অংশীদারিত্ব আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ কেবল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্বেরও অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ সুরক্ষা, শক্তি সাশ্রয় ও টেকসই উন্নয়নে বাস্তব অবদান রাখতে চাই।"

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সাবুর খান মন্তব্য করেন, "টেকসই উন্নয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়, এটি একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। ড্যাফোডিল সর্বদা অগ্রসর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে চেষ্টা করে। এই সৌর প্রকল্পটি সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা শিক্ষা, প্রযুক্তি ও পরিবেশগত দায়িত্বকে একত্রিত করেছে।"

শিক্ষা ও গবেষণায় প্রভাব

প্রকল্পটি প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর এম শামসুল আলামের নেতৃত্বে এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও প্যারামাউন্ট গ্রুপের মধ্যে কার্যকর ও টেকসই অংশীদারিত্বের একটি মডেল প্রতিষ্ঠা করেছে। শক্তির সুবিধার পাশাপাশি এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যা নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তিতে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং টেকসই শক্তি সমাধানে গবেষণাকে সমর্থন করবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ড্যাফোডিল বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অত্যাধুনিক সৌর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করছে, যা শিক্ষা ও শক্তি খাতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।