ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সব স্নাতকের জন্য বাস্তব কাজের সুযোগ
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সব স্নাতকের জন্য কাজের সুযোগ

ছবি: রয়টার্স

উচ্চশিক্ষায় বড় বদল আনল যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়

এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব স্নাতক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কাজের সুযোগ পাবেন। ইতিহাস বা দর্শনের মতো প্রথাগত বিষয় হোক কিংবা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সব ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ‘রাসেল গ্রুপ’-এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ম্যানচেস্টারই প্রথম এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও তাত্ত্বিক শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব কাজের বড় সুযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। কোনো শিক্ষার্থী যেন শুধু বই পড়ে ডিগ্রি নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের না হন। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী যেন ক্লাসের শেখা বিদ্যা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করার সুযোগ পান। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে বড় মেয়াদের প্লেসমেন্ট, সংক্ষিপ্ত ইন্টার্নশিপ, লাইভ প্রজেক্ট বা সামাজিক ও পাবলিক সংগঠনে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদা করে চেনা মানুষের খোঁজ কিংবা কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগের পেছনে ছুটতে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই কাজের দুয়ার খুলে দেবে। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটিজ ইউকে’-এর প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের জন্য গ্র্যাজুয়েটদের তৈরি করতে এটি একটি দারুণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাকরির বাজারে টিকে থাকার নতুন পথ

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পড়াশোনা শেষ করে তরুণদের চাকরি পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। অনেকে পড়াশোনার জন্য বড় অঙ্কের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। অথচ বাস্তব কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পাস করার পর যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি মিলছে না। অনেকে বাধ্য হয়ে কম বেতনের সাধারণ কোনো খুচরা বাজারে কিংবা রেস্তোরাঁয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই বাস্তব সংকট দূর করতে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা ম্যানচেস্টারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলেছেন।

যুক্তরাজ্যের ‘হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউট’-এর পরিচালক নিক হিলম্যান জানান, মানুষ মূলত একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়েই উচ্চশিক্ষা নিতে আসে। এই কর্মমুখী অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের শেখাবে কীভাবে কাজের চাপ সামলাতে হয় এবং কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার মানসিক শক্তি ও দক্ষতা বাড়াতে হয়।

তবে ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বড় পরিসরে সবার জন্য কাজের ব্যবস্থা করা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও বটে। তা সত্ত্বেও ‘রাসেল গ্রুপ’-এর প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেটের মতে, বর্তমান কঠিন শ্রমবাজারে নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপ এক বড় মাইলফলক। গার্ডিয়ান অবলম্বনে