আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তনে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনের বার্তা
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তনে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনের বার্তা

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উদ্যোক্তা মনোভাব, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের বার্তা দেন আইবিএ পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা।’ সমাবর্তনে অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলেই চলবে না, পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। প্রশ্ন হলো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নয়; প্রশ্ন হলো তোমরা সেই পরিবর্তনের কোন পাশে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থনীতিকে অনুসরণ করো না। সুযোগ তৈরি হয়ে আসার অপেক্ষায় থেকো না।’ দেশের কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ফাইন্যান্স খাতের সীমাবদ্ধতাগুলোকে সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের পথ নিজেদেরই তৈরি করতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইবিএ পরিচালক বলেন, ‘আমি চাই না তোমরা শুধু ভালো নির্বাহী হও, আমি চাই তোমরা উদ্ভাবক হও। দেশের এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।’ একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের শ্রম ও ত্যাগের ভিত্তিতেই এই শিক্ষা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

সমাবর্তনে মুখ্য বক্তা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার মোকাবিলার সক্ষমতাই একজন মানুষকে পরিণত করে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আইবিএ শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, দেশেরও অর্জন। নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ— এই চারটি প্রোগ্রাম মিলিয়ে মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।