বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (২৮ জুন) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এদিন লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করেন স্পিকার।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিন ভাতা না পাওয়া
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেস তার প্রশ্নে জানতে চান, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা অবসর গ্রহণের পর দীর্ঘদিন ধরে অবসরকালীন ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি অবসর প্রাপ্তির ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে অবসরকালীন ভাতাদি পাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রত্যেকে গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পেয়ে থাকেন।
অর্থ ঘাটতি ও নিষ্পত্তির চ্যালেঞ্জ
এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে অবসর তহবিলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি বিদ্যমান।
মন্ত্রী আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এককালীন বরাদ্দ প্রয়োজন।
সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা
সরকার ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর জন্য সফটওয়্যার পুনরায় চালুকরণ, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইবাস প্লাস প্লাস-এর মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবসর সুবিধা বোর্ডের বর্তমান অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো—ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে অবসর গ্রহণের ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই তাদের প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।



