মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিজ খরচে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র কিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ
সদর উপজেলার আলোকদিয়া ক্লাস্টারের ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সবটিতেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা
মাগুরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের ১৪ তারিখের মধ্যে জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ না নেওয়ারও নির্দেশ রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভূমিকা
উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনেক কর্মকর্তার প্রচ্ছন্ন সমর্থনে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষকদের বক্তব্য
বেলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা কাকলি বলেন, আগে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) ফান্ড থেকে পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহ করা হতো; কিন্তু ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করা হলেও স্লিপের টাকা পাওয়া যায়নি। যে কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে বুজরুক শ্রীকুণ্ডি পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী বিলকিস বলেন, স্লিপ ফান্ডের টাকা সময়মতো পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া লাগত না। এছাড়া এটি আমার একক সিদ্ধান্ত নয়, ক্লাস্টারের সব স্কুল প্রধানের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ফি নেওয়া হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে কৃষ্ণপুর, ধলহরা, কছুন্দি ও আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকেও।
আলোকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা শিক্ষা অফিস থেকে প্রশ্ন কিনে এনেছি। আর পরীক্ষার আগে বিদ্যালয়ের সততা দোকান থেকে শিক্ষার্থীরা কাগজ কিনে নেবে- এভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে মাগুরা সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি না নেওয়ার জন্য সব স্কুল প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



