চীন-যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতা বেড়েছে ৭৭%
চীন-যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতা বেড়েছে ৭৭%

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ কাজ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক কুইনসি ইন্সস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট-এর নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের যৌথভাবে লেখা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিনেটিক অ্যাসোসিয়েশন ও এপিডেমিওলজি বিষয়ক যৌথ গবেষণা বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। যকৃতের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণা বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ, এবং সিঙ্গেল-সেল ও স্পেশাল ট্রান্সক্রিপটোমিকস গবেষণা বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

বার্ধক্যবিরোধী ওষুধে সাফল্য

যৌথ গবেষণার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো বার্ধক্যবিরোধী ওষুধ নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ গবেষণা। চীনভিত্তিক সিনোফার্ম-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম সেরাগন, সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেরাগন-এর গবেষকরা যৌথভাবে নতুন দীর্ঘায়ু ওষুধ এসআরএন-৯০১ নিয়ে প্রি-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণা অনুযায়ী, এই ওষুধ প্রয়োগে ইঁদুরের গড় আয়ু প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। বার্ধক্য প্রক্রিয়ার গতি কমে প্রায় ৭০ শতাংশ। পাশাপাশি টিউমার হওয়ার হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি ৪৬ শতাংশ কমে এসেছে। বাহ্যিকভাবে ত্বক, লোম ও পেশী ব্যবস্থায় পুনর্যৌবনের লক্ষণও দেখা গেছে।

আণবিক স্তরের প্রক্রিয়া

আণবিক স্তরে এই ওষুধ ডিএনএ রিপেয়ার, মাইটোকন্ড্রিয়াল অটোফ্যাজি এবং সেলুলার অটোফ্যাজি-সম্পর্কিত উপকারী পথগুলো সক্রিয় করে। একইসঙ্গে প্রদাহ ও কোষমৃত্যু সম্পর্কিত বার্ধক্য-সম্পর্কিত প্রক্রিয়াগুলোও ঠেকিয়ে রাখে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা বিস্তৃত

স্বাস্থ্যখাতে দুই দেশের সহযোগিতা অ্যাকাডেমিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ বিনিময় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে চীনের কুয়াংচৌতে একটি ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা যৌথভাবে আয়োজন করে সুন ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতাল ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল-সংযুক্ত ডানা-ফারবার ক্যান্সার ইন্সস্টিটিউট।

ডানা-ফারবার ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা জানান, তারা এখন ফুসফুস, কোলোরেক্টাল ও স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

সূত্র: চায়না ডেইলি