মঠবাড়িয়ায় দুই মাসে ১৯ জনের মৃত্যু: হত্যা, আত্মহত্যা ও দূর্ঘটনা
মঠবাড়িয়ায় দুই মাসে ১৯ জনের মৃত্যু: হত্যা, আত্মহত্যা ও দূর্ঘটনা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত দুই মাসে (মে ও জুন ২০২৬) হত্যা, আত্মহত্যা, বজ্রপাত, মাটিধস, বিদ্যুৎস্পর্শ ও পানিতে ডুবে মোট ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হলেও পুলিশ সব কটি ঘটনার তদন্ত করে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড ও মাটির নিচে চাপা পড়ার ঘটনা

২৪ মে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের ইউসুফ শরীফ ও একই দিনে টিকিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম নিহত হন। এছাড়া ৩০ মে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে মাটিচাপায় রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদারের মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিকভাবে রশিদ ব্যাপারী ও সাগর হাওলাদারকে হত্যা করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, তারা ম্যাগনেটিক পিলারের সন্ধানে মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটিধসে নিহত হন। থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার রহস্য উদঘাটন

ধানীসাফা ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি গ্রামের একাধিক মামলার আসামি ইউসুফ শরীফকে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে আরাফাত নামে এক যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরাফাতের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেষ্টার অভিযোগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অন্যদিকে, পশ্চিম সেনের টিকিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম মাদকাসক্ত ছিলেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মা মিনারা বেগম কুঠার দিয়ে আঘাত করে ছেলেকে হত্যা করেন। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, মিনারা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিখোঁজ, আত্মহত্যা ও দুর্ঘটনা

২ মে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া তুষখালীর জানখালী গ্রামের নবী হোসেন মোল্লার পুত্র মো. হাসান মোল্লার লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৬ মে শহরের ৫নং ওয়ার্ডের গয়ালীপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন ভাড়া বাসায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুখী রানী নামে এক নারী। ১০ মে উপজেলার উত্তর মিঠাখালী নিজ বসতঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মোসা. খালেদা বেগম নামে আরেক নারী।

১৭ মে উদয়তারা বুড়িরচর এলাকার কামাল মোল্লার দেড় বছরের শিশুপুত্র আলভী বসতঘরসংলগ্ন পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। ২৩ মে দুপুরে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন শাহাদাৎ হোসেন (২৫) নামে এক যুবক। ২৯ মে বাদুরতলী গ্রামের হাসান গাজীর ১৭ মাসের শিশুপুত্র মো. রায়হান গাজী পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়।

জুন মাসের ঘটনাবলি

১ জুন বেতমোর ইউনিয়নের জানখালী গ্রামের আমিন হাওলাদারের পুত্র মো. রিয়াজ হাওলাদার (৪০) গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। ৫ জুন দুপুরে উত্তর সোনাখালী গ্রামের মৃত আবুল হাসেম জমাদ্দারের পুত্র মো. সোহরাব জমাদ্দার বজ্রপাতে নিহত হন। ৬ জুন বিকালে চালের পোকা নিধন ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বেবী বেগম (৫০) নামে এক নারী।

দাউদখালী গ্রামের রুস্তম গাজীর পুত্র মামুন গাজী (৩০) একই ধরনের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বরিশাল নেওয়ার পথে মারা যান। ১৫ জুন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কামরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া উত্তর পাতাকাটা গ্রামের আসাদুল হাওলাদারের পুত্র রাকিব (২০) বিষপানে আত্মহত্যা করেন। ১৭ জুন সাপলেজা ইউনিয়নের কচুবড়িয়া গ্রামে দুলাল আকনের চার বছরের পুত্র মো. ইসা পানিতে ডুবে মারা যায়। ১৮ জুন দুপুরে উত্তর সোনাখালী গ্রামে আব্দুল কুদ্দুস নামে এক নির্মাণ শ্রমিক বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। ১৯ জুন ভেচকী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা দুই ভাই আব্দুর রহমান (৮) ও আব্দুর রহিম (৩) পানিতে ডুবে মারা যায়।

পুলিশের বক্তব্য

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম দুই মাসে ১৯ জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।