মাদারীপুরে গাইড ওয়ালে কলাগাছের কেলেঙ্কারি, সমালোচনায় রাতারাতি বদলালো নির্মাণকাজ
গাইড ওয়ালে কলাগাছের কেলেঙ্কারি, রাতারাতি বদলালো নির্মাণ

মাদারীপুরে গাইড ওয়াল নির্মাণে কলাগাছের কেলেঙ্কারি, সমালোচনায় রাতারাতি বদলালো কাজ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি নির্মাণ প্রকল্পে গাইড ওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুরের শিবচরে। এই অনিয়মের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রাতারাতি কলাগাছগুলো উপড়ে ফেলে নতুন করে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয়দের নজরে পড়ে কলাগাছের ব্যবহার

জানা গেছে, শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাকইর চৌরাস্তা মোড়ে এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়কের গাইড ওয়ালে নিচের অংশে কলাগাছ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অনিয়মের বিষয়টি লক্ষ্য করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে পুরো জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, "রাস্তাটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। তবে কিছু জায়গায় কলাগাছ দেওয়ার বিষয়টি দেখে আমরা প্রতিবাদ করি। পরে প্রকৌশলীরা এসে সেসব গাছ উঠিয়ে নতুন করে গাইড ওয়াল নির্মাণ করেন।" এই সড়ক ব্যবহার করে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা সদরসহ সারা দেশে যাতায়াত করেন বলে তিনি জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সমালোচনার মুখে রাতারাতি বদলালো নির্মাণকাজ

অভিযোগের বিষয়টি জানার পর শিবচর উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে রাতারাতি সেসব কলাগাছ উপড়ে ফেলেন এবং নতুন করে গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। শিবচর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সাদেকাবাদ হয়ে সিপাইকান্দি থেকে মুন্সীকান্দি গ্রাম পর্যন্ত সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণকাজ শুরু করে মেসার্স মনির কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ১ হাজার ৫৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে গাইড ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক দিন আগে ইট ও পিলার এনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের এক পাশে গাইড ওয়ালের কাজ শুরু করে, যার পাঁচ মিটার স্থানে গাইড ওয়ালের নিচে কলাগাছ ব্যবহার করা হয়েছিল।

নির্বাচনকালীন তাড়াহুড়াকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, "নির্বাচনে অনেক দায়িত্ব থাকায় দু–এক দিন কাজের স্থানে যেতে পারেননি কর্মকর্তারা। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই কাজটি পুনরায় করা হয়েছে। বর্তমানে কাজটি প্রায় ৯০ শতাংশ শেষের দিকে। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা কাজের ক্ষেত্রে শতভাশত স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকালীন সময়ে ঠিকাদার কর্তৃক এমন ভুল হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আলমগীর হোসেন বলেন, "আমাকে রাজমিস্ত্রি বিষয়টি জানায়নি। যে মিস্ত্রি কাজটি করেছে তাকে জিজ্ঞেস করেছি কেন এমন কাজ করা হয়েছে। আমি তাকে এমন কিছু করতে বলিনি। সে হয়তো ভুল করে করেছে। তবে শিডিউল অনুসারেই কাজ করা হচ্ছে। এমন ভুল আর হবে না।"

তিনি নির্বাচনের সময় রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য তাড়াহুড়া করে কাজ করায় এমনটা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, "ঠিকাদার ভুল করে কাজটি করলেও এলজিইডির লোকজন দ্রুতই বিষয়টির সমাধান করেছেন। তবে প্রকৌশলীরা আরও যত্নবান হলে এমন ভুল হতো না। তারপরও তাদের ধন্যবাদ দিই যে তারা দ্রুতই সমস্যার সমাধান করেছেন।"

এই নির্মাণকাজ চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো অনিয়ম না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং নির্মাণ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।