চাঁদাবাজির ভয় কাটিয়ে যমুনা নদীর বাঁধ নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির কারণে বন্ধ হয়ে পড়া যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ আবারও শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার চর পাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল গ্রামবাসীর সরাসরি সহযোগিতায় এই নির্মাণকাজ পুনর্বহাল করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য একটি স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে।
গ্রামবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণে কাজের অগ্রগতি
চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজহারউদ্দীন ফকির জানান, ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়া চিহ্নিত চাঁদাবাজরা সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর গা ঢাকা দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামবাসীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় শুক্রবার সকালে ‘এস্কেলেটর’ যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি খনন করে সাইট প্রস্তুতিসহ নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘চাঁদাবাজের ভয়ে বন্ধ যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের কাজ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ঠিকাদার ‘মোল্লা ট্রেডার্সের’ সৈকত হাসানের অভিযোগের বরাতে বলা হয়, স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবির পর মেঘনা তীরে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদী ভাঙন রোধে স্থানীয়দের দৃঢ় প্রত্যয়
পাকরুল গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে তাদের ভিটেমাটি রক্ষা করতে যে কোনো মূল্যে তারা বাঁধ নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন বাঁধ নির্মাণের গতি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গ্রামবাসীদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে, যা এলাকার নিরাপত্তা ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোল্লা ট্রেডার্সের’ কর্ণধার সৈকত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাজ পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজির হুমকি কাটিয়ে উঠতে পারায় নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাদারগঞ্জের বাসিন্দারা এখন আশাবাদী যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পাবে।



