পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা এলাকায় বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর এক ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সংঘটিত হয়েছে। এই যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে দস্যুরা তাদের ট্রলার ফেলে সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, কার্তুজ, চারটি ওয়াকিটকি এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার সকাল দশটার দিকে সুন্দরবনের শেলারচর এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৩ মে) সকাল দশটায় শেলারচর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিমের বনরক্ষীরা সুন্দরবনে যৌথ টহল দিচ্ছিল। এ সময় শেলারচর টহল ফাঁড়ির সিঙেরটেক বন এলাকার নদীতে একটি ট্রলার দেখতে পেয়ে সেটিকে থামানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ট্রলারটি না থামিয়ে বরং ট্রলারে থাকা বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বনরক্ষীদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।
পাল্টা গুলি ও দস্যুদের পলায়ন
বনরক্ষীরা দস্যুদের পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে নদীর তীরে ট্রলার ভিড়িয়ে দস্যুরা লাফিয়ে পড়ে দৌড়ে সুন্দরবনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ, চারটি ওয়াকিটকি জব্দ করে এবং ট্রলারে শিকলবন্দি অবস্থায় জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত জেলেরা
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন হাসান (৩২), মাসুম (২৪), ইরাক শেখ (৩০) ও নাছিম (২২)। তাদের বাড়ি শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায়। উদ্ধারকৃত জেলে ও দস্যুদের ট্রলার শেলারচর টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বনরক্ষীরা সাত রাউন্ড গুলি করেছে বলে এসিএফ জানিয়েছেন।
তল্লাশি অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল সিঙেরটেক বনাঞ্চলে দস্যুদের ধরতে বনরক্ষীরা তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



