যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কথিত ভোট জালিয়াতি ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ আদালত ও কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়েছে। ভোট জালিয়াতি দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার থাকলেও এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশগুলো আদালতে স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগও সিনেটে আটকে গেছে।
সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট ও সিনেটের বাধা
ট্রাম্পের সমর্থিত সেভ আমেরিকা অ্যাক্টে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরাই বিলটি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হলে তিনি অন্য কোনও আইনেও স্বাক্ষর করবেন না। তবে রিপাবলিকান সিনেটরদের দাবি, দলের নিজস্ব নিয়ম পরিবর্তন করলেও বিলটি পাসের মতো ভোট তাদের হাতে নেই।
আদালতের স্থগিতাদেশ
এদিকে আদালতও ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি আদালত সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের সেভ (সিস্টেম্যাটিক অ্যালিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস) ডেটাবেজ সম্প্রসারণের উদ্যোগ আটকে দেয়। স্থানীয় ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের শনাক্ত করতে এ ডেটাবেজ ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। নতুন ডেটাবেজে শুধু অভিবাসী নয়, মার্কিন নাগরিকদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে বোস্টনের একটি জেলা আদালত বুধবার ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করার ট্রাম্পের অন্যতম প্রথম নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের বিরুদ্ধেও রায় দেয়।
প্রশাসন এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। আদালতের এসব রায়ের পর সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
একটি আবাসনবিষয়ক বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিলের আগে বুধবার ট্রাম্প বলেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করানো এখন ‘জাতীয় জরুরি বিষয়’। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেন, ট্রাম্প চান যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা তৈরি হোক। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ আইনসম্মতভাবে নির্বাচন সুরক্ষিত করছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসন এতে সফল হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা অ্যাক্টসহ এমন আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন পরিচয়পত্রের মানদণ্ড নির্ধারণ, কারণ ছাড়াই ডাকযোগে ভোট বন্ধ এবং ব্যালট সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতির অবসান ঘটানো যায়।
বিরোধীদের অভিযোগ
তবে ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ডের সিনিয়র কাউন্সেল হান্না হিকম্যান অভিযোগ করেন, প্রশাসন ভোট জালিয়াতি ঠেকানোর নামে অনেক মানুষের ভোটাধিকার সীমিত করা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিরল হলেও সম্ভাব্য এমন ঘটনা খুঁজে বের করাকে এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইসিইর কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে চলমান তদন্তের জন্য ভোটার তালিকার তথ্য চাইছেন। ইতোমধ্যে টেক্সাসের ওয়েব কাউন্টি এবং নর্থ ক্যারোলিনার ফোরসাইথ কাউন্টির ভোটার তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।



