রূপগঞ্জে এনসিপির ফল উৎসব মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর, আহত ১০
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত ফল উৎসবের জন্য তৈরি মঞ্চে দুই দফায় প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এনসিপির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা এবং শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে ওই মাঠে ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল।
দুই দফায় হামলা
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল নিয়ে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভেঙে ফেলে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় প্রস্তুতি নেয় এনসিপি নেতাকর্মীরা।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরির কাজ চলাকালে ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেলে আরেক দল দুর্বৃত্ত এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মঞ্চ ভাঙচুর করে। তারা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং প্যান্ডেল খুলে ফেলে। এ সময় উপস্থিত লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে।
আহত ও অভিযোগ
হামলায় এনসিপির রূপগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সদস্য সচিব ফারাবি হাসান, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা, জাতীয় যুব শক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে ভর্তি করা হয়েছে।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে প্যান্ডেলে হামলা, ভাঙচুর ও এলোপাথাড়ি মারধর করে। এ সময় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতারা।
জাতীয় যুব শক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদি কায়দায় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ফল উৎসবের প্যান্ডেল ভাঙচুর করে এবং আমাকেসহ ১০ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদি কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আমি এসব ব্যাপারে কিছুই জানি না। শুধু শুধু আমার ব্যাপারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
বিএনপি নেতার বক্তব্য
ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন এনসিপি নেতাকর্মীদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এনসিপি নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে তাকে রোষানলে পড়েন।
মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমাদের দলের কেউ না। দলের দুর্নাম করার জন্যই আওয়ামী পেতাত্তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফল উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি মাঠের পাশে অবস্থান নিয়েছিলাম।’
পুলিশের বক্তব্য
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সরকারি পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘এনসিপির ফল উৎসবের প্রোগ্রামে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসন নিয়োজিত রয়েছে। তারা নির্বিঘ্নে তাদের ফল উৎসবের প্রোগ্রাম করতে পারবেন।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিহার করুন, কাজ না থাকলে সীমান্ত পাহারা দিন, তাহলেও একটা কাজ হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা খোলস পাল্টে ছাত্রদল ও যুবদল বনে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে।’
শনিবার বিকাল ৫টায় কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফল উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের প্রোগ্রামটি ছিল বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে ফল খাবো, যাতে মিডিয়ার মাধ্যমে দেখানো যায় এবং ভবিষ্যতে ফল বিদেশে রপ্তানি করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পারি।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন রাখেন, ‘এই ফল উৎসবে হামলা কেন হলো? রক্তাক্ত করা হলো, এটা কাপুরুষোচিত আচরণ।’ তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের রাজনীতি না করে সীমান্ত পাহারা দিন। অন্তত দেশের একটা কাজ হবে।’
এনসিপির এই নেতা আরও জানান, অনেকে তাকে রূপগঞ্জের অনুষ্ঠানে না যেতে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি তার সহকর্মীদের পাশে থাকার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।



