সরকারি দিবস পালনে নতুন নির্দেশনা: ক, খ ও গ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকা প্রকাশ
সরকারি পর্যায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলো পালনের ক্ষেত্রে নতুন একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বুধবার (১১ মার্চ) এই পরিপত্রটি প্রকাশ করা হয়, যা আগের ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের পরিপত্রটি বাতিল করেছে। নতুন নির্দেশনায় দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে, সাথে কিছু বিশেষ দিবস যুক্ত হয়েছে।
দিবস শ্রেণিবিভাগ ও নতুন সংযোজন
নতুন পরিপত্রে দিবসগুলোকে ক, খ ও গ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস ও উৎসব রয়েছে, যা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। এতে ৫ আগস্টকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনটিকে স্মরণ করে।
অন্যদিকে, খ-শ্রেণিতে ৩৭টি দিবস রয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয় বা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতায় সহায়ক। এসব দিবস পালনে মন্ত্রীরা অংশ নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এজন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।
গ-শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস স্থান পেয়েছে, যা সীমিত কলেবরে পালন করা হবে। মন্ত্রীরা উপস্থিতি বিবেচনা করবেন, তবে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
বাতিলকৃত দিবস ও বিশেষ স্মরণ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক বাতিলকৃত বেশ কয়েকটি দিবস, যেমন ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, এবং ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস, বিএনপি সরকারের সময়েও বহাল ছিল। নতুন পরিপত্রে এসব দিবসের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের স্মরণে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়েছিল, যা নতুন সরকারের সময়েও বহাল রয়েছে।
ব্যয় সাশ্রয় ও কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত এড়ানোর নির্দেশনা
পরিপত্রে সরকারি সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিবস পালনে সাজসজ্জা ও বড় আকারের অনুষ্ঠান পরিহার করতে বলা হয়েছে, তবে বেতার-টেলিভিশনে আলোচনা ও সীমিত সেমিনার আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা এড়াতে হবে, এবং অনুষ্ঠানসূচি তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।
- অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটানো নিশ্চিত করতে হবে।
- আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে বা অফিস সময়ের পর আয়োজন করতে হবে।
- রাজধানীর বাইরে থেকে কর্মকর্তা আনা পরিহার করতে হবে।
সপ্তাহ পালন ও আন্তর্জাতিক দিবস সমন্বয়
শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস, পুলিশ সপ্তাহ, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহের মতো বিশেষ সপ্তাহ পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে, সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একই তারিখে একত্রে পালন করতে হবে, যেখানে আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়গুলো এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে।
নতুন এই পরিপত্র সরকারি দিবস পালনের ক্ষেত্রে আরও সংহত ও দক্ষ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের সম্পদ ও সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করবে।



