কুমিল্লায় এপ্রিল মাসে অপরাধমূলক মামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জেলায় খুন, ধর্ষণ, চুরি ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাসিক সভায় পরিসংখ্যান প্রকাশ
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বিভিন্ন অপরাধের অধীনে মোট ৫৮৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যা মার্চ মাসের ৫১৭টি মামলার তুলনায় ৬৭টি বেশি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।
কর্মকর্তাদের উদ্বেগ
কর্মকর্তারা জানান, এই বৃদ্ধি অপরাধমূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি উভয়কেই নির্দেশ করতে পারে। তবে তারা বিভিন্ন উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরিসংখ্যানের বিস্তারিত
কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ১০টি খুন ও ২০টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ২৮টি মামলা, চুরির ৪১টি মামলা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ৬০টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০৫টি মামলা দায়ের হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। পাশাপাশি ডাকাতি, দস্যুতা ও শারীরিক আক্রমণের মামলাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, তুলনামূলক গুরুতর অপরাধের সাতটি বিভাগে মামলা বেড়েছে, পাঁচটি বিভাগে কমেছে।
জন উদ্বেগ ও আইনজীবীর মন্তব্য
কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলা বৃদ্ধি অপরাধ পরিস্থিতির অবনতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, “মামলা বেড়েছে মানে অপরাধও বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে নেতিবাচক লক্ষণ। আমরা নিজের চোখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখছি। স্বাভাবিকভাবেই এটি জনগণের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।”
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রধান মো. রেজা হাসান অবশ্য বলেছেন, এই বৃদ্ধি আংশিকভাবে ভুক্তভোগীদের আইনি প্রতিকার চাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে হতে পারে। তিনি জানান, সভায় ঈদ-উল-আযহার আগে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গরু পরিবহনের সময় মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শপিং মল ও গরুর হাটে চুরি ও ছিনতাই রোধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



