সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা গণতন্ত্রে ভূমিকা রাখবে: এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া ও আশাবাদ
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র অল্প সময়ের মধ্যে বাছাই হয়েছে। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের জন্য আরও একদিন সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেটিও বৈধ হবে এবং প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন।
তিনি বলেন, "আমরা জোট থেকে ১৩ জনকে মনোনয়ন দিয়েছি। আশা করি তারা সবাই নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং অন্য একজনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে, এনসিপির মনিরা শারমিনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিধি অনুযায়ীই তারা ব্যবস্থা নেবেন।
আসন বরাদ্দ ও নির্বাচনী সম্ভাবনা
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বৈধ না হলে এবং নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না হওয়ায় একটি আসন হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আসনটি উন্মুক্ত নির্বাচনের আওতায় আসতে পারে, যা জোটের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
নির্বাচনী তফসিল ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল বিএনপি জোট, স্বতন্ত্র জোট ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের এই বক্তব্য জামায়াত জোটের নির্বাচনী প্রস্তুতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়েছেন, তাদের প্রার্থীরা আইন ও বিধি মেনে চলবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।



