ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য আটক, ভুক্তভোগী চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান
ছিনতাই চক্রের তিন সদস্য আটক, ভুক্তভোগী লাফিয়ে বাঁচলেন

ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-১৪। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লিখন হাসান (১৯) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গুজারকুড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

ঘটনার বিবরণ

লিখন হাসান গাজীপুরে বোনের বাসা থেকে শেরপুরে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে তিনি দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় বাস থেকে নেমে শেরপুরগামী অন্য বাস ধরতে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি অটোরিকশা এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। তাতে চালকসহ তিনজন ছিলেন। তারা জোর করে লিখনকে অটোরিকশায় তুলে তাঁর বাড়ির ঠিকানা জানতে চায়। এরপর তাকে মারধর করে একটি মুঠোফোন ও সঙ্গে থাকা ৩১০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে।

র্যাবের তৎপরতা

দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে কেওয়াটখালী বাইপাস সড়কের ময়নার মোড় এলাকায় অন্য একটি অভিযানে যাওয়ার পথে র্যাবের একটি টহল গাড়ি দেখতে পান লিখন। তখন তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে ঝাঁপ দেন। পরে র্যাব সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশায় থাকা তিনজনকে আটক করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (২০), সাব্বির হোসেন ওরফে তপন (২০) এবং মো. সোয়াদ (১৯)। রাকিবের বাড়ি ময়মনসিংহ নগরের কৃষ্টপুর এলাকায়, তপনের বাড়ি বলাশপুর আবাসন প্রকল্পে এবং সোয়াদের বাড়ি কেওয়াটখালী শ্মশানপাড়া এলাকায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনি ব্যবস্থা

র্যাব মঙ্গলবার ওই তিনজনকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করে। ভুক্তভোগী লিখন হাসান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছি। এদের সঙ্গে আরও কারা আছে, তা দেখা হচ্ছে।’

ছিনতাই চক্রের বড় ধরনের নেটওয়ার্ক

র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘আটক তিনজন জানিয়েছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক ইজিবাইকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকাপয়সা, মুঠোফোন এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে আসছিলেন। চক্রটি অনেক বড়। তাঁদের সবাইকে ধরতে আমরা কাজ করছি।’