কক্সবাজার থেকে ফেরার সময় কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে আল-আমিন ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিচয়
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মহিষাইর গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ (২৫) ও মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা অন্তর (২২)। সানাউল্লাহ কুমিল্লা নগরের স্টেশন রোড এলাকায় পুরোনো মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি তিনি বিআরটিসি বাস ডিপো জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার দিকে ফিরছিলেন সানাউল্লাহ ও অন্তর। ছুপুয়া এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা যাত্রীবাহী মদিনা বাস যাত্রী ওঠানামার জন্য থামে। এ সময় একই দিকে দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি বাসটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার পুলিশ দুই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
নিহত সানাউল্লাহর মামা মাওলানা মাজহারুল ইসলাম বলেন, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর ভাগনে কুমিল্লা শহরে ব্যবসা করতেন। মোটরসাইকেলে করে কুমিল্লায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্টেশন রোড এলাকার ব্যবসায়ী ও সানাউল্লাহর বন্ধু বিপু বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার সানাউল্লাহ আমাকে ফোন করে কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারি। পরে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হই। অন্তরকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না। তবে ধারণা করছি, তিনি সানাউল্লাহর বন্ধু বা পরিচিত ছিলেন। সানাউল্লাহ খুবই ভালো মানুষ ছিলেন।’
পুলিশের বক্তব্য
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মরদেহ দুটি থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিরা কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।



