বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির অপবাদ দিয়ে তিনজনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন এবং একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পূর্ব ভূতেরদিয়া সাইক্লোন সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব ভূতেরদিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহে আলম মৃধার ছেলে বুখাই মৃধা তার বন্ধুদের নিয়ে গ্রামের আলমগীর মলিকের মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আলমগীর মলিক বাবুগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ মামলায় ছেলে ও মেয়ে উভয়কে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় মেয়ের চাচা মিজান মলিক আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ করে রাতে মিজান মলিক তার স্ত্রী লাইজু আক্তার ও ছেলে আজাদ মলিককে নিয়ে ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া সাইক্লোন সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে শাহে আলম মৃধা তার লোকজন নিয়ে ভ্যানের গতিরোধ করে।
নির্যাতনের বিবরণ
শাহে আলম মৃধা ও তার লোকজন মিজান মলিককে গরু চোর আখ্যা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনে মিজান মলিকের পা ভেঙে যায়। তার স্ত্রী লাইজু আক্তার ও ছেলে আজাদ মলিককেও বেদম মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে একটি ঘরের ভেতর তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার ও হাসপাতালে ভর্তি
খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামাল হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ তালাবদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতরা হলেন মিজান মলিক, তার স্ত্রী লাইজু আক্তার এবং ছেলে আজাদ মলিক।
পুলিশের বক্তব্য
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, 'একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ রাখার সংবাদ শুনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আগামী সপ্তাহে একটি শালিস বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। স্থানীয়রা শালিস বৈঠকে ব্যর্থ হলে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



