খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী পুনঃখনন প্রকল্পে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক, খুলনা বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার, খুলনার জেলা প্রশাসক ও ডুমুরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগ
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সৈয়দা নাসরিন এবং আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান (শাহিন) গত ২১ জুন এ নোটিশ পাঠান।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
নোটিশে বলা হয়েছে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বারাতিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভদ্রা নদী পুনঃখনন ও ড্রেজিং কার্যক্রম চলছিল। এ সময় নদী থেকে তোলা বিপুল পরিমাণ মাটি ওই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবাসিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনার পাশে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে তার ওপর ফেলা হয়। এর ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘরে ফাটল সৃষ্টি, দেয়াল ও ছাদের ক্ষতি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সমস্যা, চলাচলের রাস্তা বাধাগ্রস্ত এবং টিউবওয়েলসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি
আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শতাধিক বাসিন্দা—যাদের মধ্যে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও রয়েছেন—বর্তমানে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছেন। বর্ষার কারণে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সাংবিধানিক ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন
নোটিশে বলা হয়েছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ভূমিহীন, গৃহহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার একটি সরকারি উদ্যোগ। ফলে রাষ্ট্রীয় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এসব মানুষের নিরাপত্তা, বাসস্থান ও জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়া সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দাবি ও সময়সীমা
তাই নোটিশে দাবি করা হয়েছে—
- ড্রেজিংয়ের কারণে মাটি ফেলার ঘটনা নিয়ে অবিলম্বে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, স্যানিটেশন, টিউবওয়েল, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোর কারিগরি মূল্যায়ন করতে হবে।
- নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা ফেলা মাটি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খরচে মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে।
- ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অস্থায়ী সহায়তা দিতে হবে।
- দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক পদক্ষেপ নিতে নোটিশগ্রহীতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।



