কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, প্রতিবাদকারী মামার ওপর হামলার অভিযোগ
কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, মামার ওপর হামলা

কুমিল্লার মুরাদনগরে শিশু ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মেহেদী হাসান নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আজ শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শিশুটি তার নানার বাড়িতে অবস্থান করছিল। দুপুরে গোসল শেষে ঘরে ফেরার পথে মেহেদী হাসান তাকে নির্জন একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত হন। শিশুটি ঘরে ফিরে ঘটনাটি তার খালাকে জানানোর পর তাকে দ্রুত মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

প্রতিবাদে হামলার ঘটনা

শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এই ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে শিশুটির মামার ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির খালা জানান, গতকাল দুপুরে গোসল শেষে শিশুটিকে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তার ভাই গ্রামের দুই–তিনজন ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযুক্ত তরুণের বাড়িতে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাবা দাবি করেন যে তার ছেলে এমন কাজ করতে পারে না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে অভিযুক্ত তরুণের বাবা ভাঙা কাচের টুকরা দিয়ে শিশুটির মামার পায়ে পোঁচ দেন। এই হামলায় শিশুটির মামার বাঁ পা কেটে যায় এবং তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসরুরুল হক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে আটক করা হয় এবং গতকাল রাতে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, শিশুটির চিকিৎসা বর্তমানে চলমান এবং তার মামার ওপর হামলার ঘটনাটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ধামঘর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলালের ছেলে বলে পরিচিত।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সকল প্রকার সহিংসতা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।