নাটোরে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা: ছেলে কারাগারে, পারিবারিক দ্বন্দ্বই কারণ
নাটোর জেলার সদর উপজেলার হাশেমপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পিতা মহরম আলীকে (৫৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার নিজের ছেলে মঈন উদ্দিন সিয়াম (২৭)। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘটিত হয়েছে এ নৃশংস ঘটনা।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার হাশেমপুর গ্রামে মহরম আলীর নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ মহরম আলীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় তারা দেখতে পান কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তাকে মেঝেতে ফেলে রেখে গেছে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মহরম আলীকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেফতার
মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধান শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে নিহতের ছেলে মঈন উদ্দিন সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও জব্দ করে পুলিশ। বুধবার বিকালে নাটোর আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পারিবারিক দ্বন্দ্বই কারণ
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবার সঙ্গে ছেলের পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যার বিষয়টি গ্রেফতার ছেলে মঈন উদ্দিন সিয়াম স্বীকারও করেছেন।
এ ঘটনায় নিহত মহরম আলীর বড় ভাই নাটোর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ হত্যার বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছেন নাটোর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, পারিবারিক কলহ এমন মাত্রা নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সব দিক উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।



