রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায় বন্ধ্যত্ব দূর করার কথা বলে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক কবিরাজের বিরুদ্ধে। নারীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত কবিরাজ মাহাবুর রহমানকে (৪৮) আটক করে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাছ থেকে মাহাবুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। একই ধরনের অপরাধে তিন বছর আগেও তিনি র্যাবের হাতে আটক হয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোহনপুর উপজেলার একটি গ্রামের এক নারী বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গতকাল বিকেলে বাগমারা উপজেলায় কবিরাজ মাহাবুর রহমানের বাড়িতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে (২৭) একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। গৃহবধূ প্রতিবাদ করলে মাহাবুর রহমান এটিকে চিকিৎসার অংশ বলে দাবি করেন। পরে ওই নারী কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে বাইরে থাকা লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আশপাশের মানুষও জড়ো হন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাহাবুর রহমান দোতলায় আশ্রয় নেন। শত শত মানুষ বাড়ির নিচে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বাগমারা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে রাত নয়টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করেন এবং মাহাবুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ওই নারীর ভাষ্য, তাঁকে তিন মাসের চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনি দেড় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগেও তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজের দোতলা বাড়ির নিচতলায় চেম্বার চালিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছেন মাহাবুর রহমান। ২০২৩ সালে একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে র্যাব-৫-এর সদস্যরা তাঁকে আটক করেছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে আবারও কবিরাজি শুরু করেন।
মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, কবিরাজের বিরুদ্ধে যৌন পীড়নের অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১০ ধারায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আজ রোববার দুপুরে আদালতে তোলা হবে।



