গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মারধরে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (১১ মে) বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন (৬০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনার বিবরণ
শ্রীপুর থানার ওসি মো. নাছির আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মারধরের দুই দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুর পরিবার পলাতক রয়েছে। নিহত জয়নাল আবেদীন উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।
নিহতের ছেলের অভিযোগ
নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার ফাওগান বাজারের পাশে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বাবাকে ডেকে নেন প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রাশিদুল ইসলাম। পরে বাবাকে ফাওগান বাজারসংলগ্ন স্কুলমাঠে নেওয়া হয় এবং সেখানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় বাবাকে তিন দফা মারধরের পর বাজারের পাশে তমিজ ডাক্তারের ওষুধের দোকানের সামনে ফেলে যাওয়া হয়। পরে স্বজনরা অটোরিকশায় করে বাবাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার মৃত্যু হয়।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
এ বিষয়ে মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, বাজারের পাশের এক শিশুর অভিভাবক আমার কাছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা জানানোর পর আমি জয়নাল আবেদীনকে স্কুলমাঠে ডেকে নিই। সঙ্গে সঙ্গে শিশুর স্বজনসহ লোকজন গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। আমি মারধর করেছি- এটা সঠিক নয়।
আইনগত ব্যবস্থা
শ্রীপুর থানার ওসি মো. নাছির আহমদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধর্ষণ ও গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত চলছে।



