নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ফোনালাপ: ‘সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’
ট্রাম্পের ফোনালাপ: ‘সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনালাপে ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের লেখা একটি নতুন বইয়ে ট্রাম্পের এই ক্ষোভ প্রকাশের তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।

বইয়ে প্রকাশিত তথ্য

মঙ্গলবার প্রকাশিত রেজিম চেঞ্জ নামক নতুন বইটিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জামাতা ও মার্কিন শান্তি দূত জ্যারেড কুশনার, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি ফোনালাপের সময় ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। ওই সময়ে তারা ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, যা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় দুই বছরের তীব্র লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন।

ফোনালাপের পটভূমি

বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালানোর পর জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলের ওপর মারাত্মকভাবে বিরক্ত হন। ওই হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যও নিহত হন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দিত হয়েছিল। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কুশনার তখন তার এক সহযোগীকে বলেছিলেন, ‘আমি এর মধ্যে আর নেই। ইসরায়েলিরা পাগল হয়ে গেছে।’ তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন যে, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েই ইসরায়েলকে দিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। এরপর কুশনার একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরবর্তীতে ট্রাম্প এই পরিকল্পনাটি নেতানিয়াহুর কাছে উপস্থাপন করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের উত্তপ্ত মন্তব্য

উত্তপ্ত সেই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘বিবি, সবাই তোমার ওপর বিরক্ত। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি মূলত কুশনার এবং উইটকফের দিকে ইঙ্গিত করে ছিল, যারা দুজনেই ইহুদি এবং ওই ফোনালাপে যুক্ত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আরও বলেন, ‘তুমি এটা থেকে পিছিয়ে যেতে পারো না। ইসরায়েল এ যাবৎকাল যত বন্ধু পেয়েছে, তার মধ্যে আমিই সেরা। সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, আর আমি তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি। এই চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য দারুণ একটি সুযোগ।’

শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা

এই ফোনালাপের দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও এটি অনুমোদন করে।

বইয়ের অন্যান্য তথ্য

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের লেখা এই রেজিম চেঞ্জ বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বইটিতে এপস্টিন ফাইলস এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনার বিশদ বিবরণ রয়েছে।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা শুরুর দিনগুলোতে ট্রাম্প আবারও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সিচুয়েশন রুমে কথা বলেন। সে সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘ইরানে এখন সরকার পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময়।’ তবে পরবর্তীতে সিচুয়েশন রুমের আরেকটি বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেতানিয়াহুর এই মূল্যায়নকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন।

অ্যাক্সিওস সম্প্রতি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের এসব তথ্য এভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।