ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের দল রিপাবলিকান সিনেটরদের সঙ্গেই বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে এক বৈঠকে চিৎকার-চ্যাঁচামেচির ঘটনা ঘটেছে। কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব পাশ হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে সংশয় ও বাগ্বিতণ্ডা
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সাথে যে শান্তি চুক্তি করেছেন, তা নিয়ে কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। বুধবার একটি আবাসন বিল স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আকস্মিকভাবে বাতিল করার পর সিনেটের রিপাবলিকানদের সাথে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত ঐ মধ্যাহ্নভোজ ও বৈঠকে তিনি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে তার যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার জন্য মঙ্গলবার যে প্রতীকী ভোট হয়েছে—সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এটি ছিল কংগ্রেসের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম প্রস্তাব, যার মাধ্যমে একজন প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
বুধবার ক্যাপিটল হিলে বৈঠকের আগে ট্রাম্প যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর ঐ ভোটকে ‘অসময়ের এবং অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ঐ ভোটে যে চার জন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সাথে ভোট দিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে তাদেরকে ব্যর্থ বলে সম্বোধন করেন ট্রাম্প। ঐ চার জন রিপাবলিকানের একজন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বুধবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তার এবং প্রেসিডেন্টের মধ্যে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং বললাম, ‘আপনি আমেরিকান জনগণকে বলেননি আসলে কী ঘটছে’। এটি চার সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু চার মাস ধরে চলছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্যগুলো এখনো অর্জিত হয়নি।’
ন্যাটো মহাসচিবের সাথে বৈঠকেও ক্ষোভ
বুধবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে এক বৈঠকেও ট্রাম্প পুনরায় নিজের যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর ঐ ভোটের বিষয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চার জন রিপাবলিকান সিনেটর এবং সব ডেমোক্র্যাট—তারা যুদ্ধটি হেরে যেতে চায়, কারণ তারা বোকা।’ গত মাসে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কংগ্রেসের একটি প্যানেলকে বলেছিলেন যে, এ পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। যদিও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং আইনপ্রণেতারা বলছেন, এই হিসাব যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না।
যুদ্ধের জন্য আরো অর্থ চান ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত ‘জরুরি প্রয়োজন’ মেটানোসহ কয়েকটি খাতের জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন (৮ হাজার ৭৬০ কোটি) ডলার অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এই অনুরোধটি এমন এক সময়ে করা হলো, যার মাত্র এক দিন আগেই প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেস। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই তহবিলের সিংহভাগ অর্থ, অর্থাৎ ৬৭ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলার গোলাবারুদ কেনার জন্য, ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পরিচালন ব্যয় এবং ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার গোপন বা ক্লাসিফাইড কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে। অন্যান্য বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের জন্য বাকি অর্থ চাওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মার্কিন কৃষকদের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত। তবে এই প্রস্তাবটি মার্কিন কংগ্রেসে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ইরানের সাথে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় নয় এবং সামনেই নভেম্বরে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউজের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট বিভাগ বুধবার হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই তহবিলের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। —বিবিসি



