তুরাগ নদে তিন মরদেহ উদ্ধার: গুমের ভয় না ভিত্তিহীন গুজব?
তুরাগ নদে তিন মরদেহ: গুমের ভয় না গুজব?

তুরাগ নদে ভাসমান মরদেহ, নিখোঁজ দুই তরুণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কয়েকটি ছবি— এসব ঘটনাকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাহলে কি ভিন্ন কৌশলে গুম ফিরছে? নাকি তুরাগ-আশুলিয়ায় বিচ্ছিন্ন মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যাচাইহীন প্রচারণাই গুমের পুরোনো ভয়কে উসকে দিচ্ছে?

পুলিশ বলছে, ‘আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর মরদেহ তুরাগ নদে ভাসছে’—এমন দাবি ভিত্তিহীন। ঢাকা জেলা পুলিশের ভাষ্য, দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত। ডিএমপিও বলছে, তুরাগ থানা এলাকায় ধারাবাহিক মরদেহ উদ্ধার বা হত্যাকাণ্ডের কোনও তথ্য নেই।

তবে বিভিন্ন থানা, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনদের তথ্য বলছে, ২৪ থেকে ২৬ জুন তুরাগ ও আশুলিয়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে তিন জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মো. সুমন ও আরিফ হাসান রাকিব ২২ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। রনি মোল্লার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনও তথ্য নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিন মরদেহ, তিন প্রেক্ষাপট

৩৫ বছর বয়সী রনি মোল্লা ২৪ জুন সাভারের রয়েল সিটি খেয়াঘাট এলাকায় তুরাগে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন। কিছু সময় পর পানির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার বলছে, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশও ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখছে।

১৭ বছর বয়সী মো. সুমন ২২ জুন বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পুলিশের ভাষ্য, ২০ থেকে ২২ জন বন্ধুর সঙ্গে নৌভ্রমণে গিয়ে আশুলিয়ার গরুহাট ঘাটে নামার সময় সাঁতার না জানা সুমন নদীতে পড়ে তলিয়ে যান। চার দিন পর মরদেহ উদ্ধার হয়। তবু এটিকে কেবল অপমৃত্যু মামলা দিয়ে শেষ করা কতটা যথেষ্ট, সেই প্রশ্ন করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নৌভ্রমণে কারা ছিলেন, নৌকাটি কার, ঘাটে ধাওয়া, বিশৃঙ্খলা, পুলিশি অভিযান বা রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রভাব ছিল কিনা—এর উত্তর এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরিফ হাসান রাকিব ২২ জুন সকালে বাসা থেকে বের হন এবং বিকালে মায়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। এরপর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ২৪ জুন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তারা জানেন না। মৃত্যুর পর তারা জানতে পারেন, আরিফ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আগে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা তারা কখনও শোনেননি।

আরিফ দুর্ঘটনায় নদীতে পড়েছিলেন, নাকি অন্য কোনও ঘটনার শিকার হয়েছিলেন—ময়নাতদন্ত, মোবাইল ফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং সর্বশেষ অবস্থানের ডিজিটাল ট্রেইল ছাড়া তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তুরাগ নদ কোনও একটি থানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নদীর বিভিন্ন অংশ ডিএমপির তুরাগ, রূপনগর ও দারুসসালাম থানা, ঢাকা জেলার আশুলিয়া ও সাভার এবং নৌ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্ষেত্রে পড়েছে। ফলে এক সংস্থা নিজের এলাকায় কোনও মরদেহ উদ্ধারের তথ্য না পাওয়ার কথা বললেও কাছাকাছি অন্য অংশে ভিন্ন তথ্য থাকতে পারে। প্রশাসনিক বাস্তবতা এমন হলেও তথ্য উপস্থাপনের ঘাটতিতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তারা। বিভিন্ন ইউনিটের বক্তব্যে সংখ্যা, স্থান, সময় ও এখতিয়ার একসঙ্গে পরিষ্কার হয়নি। কেউ বলছে দুটি ঘটনা, কেউ বলছে একটি। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে—তিন জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ফাঁকই গুজব ছড়ানোর সুযোগ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ‘গুজব’ বললে আস্থা ফিরবে না। কোন অংশে, কোন থানার আওতায় কার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, ময়নাতদন্তে কী পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কোন পর্যায়ে—এসব সমন্বিতভাবে জানানো জরুরি।

কুমিল্লায় ছাত্রশিবির নেতা জিসান: গুম নয়, আত্মগোপন

তুরাগের ঘটনার সঙ্গে কুমিল্লায় ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার সরাসরি যোগসূত্র নেই। তবে স্বজনরা প্রথমে এটিকে গুম দাবি করেন। রাজনৈতিক নেতারাও তাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। পরে তাকে লাকসাম থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি অপহৃত হননি, ব্যক্তিগত একটি মামলার জটিলতা এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন।

এখানেও একদিকে অপহরণের অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের আত্মগোপনের ব্যাখ্যা। রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাকর পরিবেশে কাউকে খুঁজে না পাওয়া মাত্রই গুমের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের নিকট অতীতের নির্মম অভিজ্ঞতা।

গুমের ভয় কেন এত সহজে ফিরে আসে

বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ নিয়ে পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন প্রশ্ন তুলেছে। গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের আগের প্রতিবেদনে বহু নিখোঁজ হওয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। কমিশনের তথ্যভান্ডারে এক হাজারের বেশি অভিযোগ আছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ হিসেবে রেকর্ডে রয়েছেন।

এই অভিজ্ঞতার কারণেই কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়া, নদী বা জলাশয় থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া, কিংবা পুলিশি ব্যাখ্যার সঙ্গে পরিবারের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিলেই পুরোনো শঙ্কা ফিরে আসে। তবে শঙ্কা আর প্রমাণ এক নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুমের ভয় কেবল অতীতের স্মৃতি নয়। রাষ্ট্র যখন সময়মতো, স্পষ্টভাবে ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সত্য জানাতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই ভয়ই গুজবের সবচেয়ে বড় জ্বালানি হয়ে ওঠে।

আইনগত অর্থে গুম বলতে এমন ঘটনা বোঝায়, যেখানে কোনও ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিদের হাতে আটক, অপহৃত বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হন এবং পরে তার অবস্থান বা পরিণতি গোপন করা হয়। তাই নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহকে গুম বলা যাবে না। আবার তদন্ত বিশ্বাসযোগ্য, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ না হলে কোনও মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলেও ধরে নেওয়া যায় না।

রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার হলে এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি অস্পষ্ট থাকলে শুধু অপমৃত্যু মামলা যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে তিনি কোথায়, কার সঙ্গে ছিলেন—ধাওয়া, সংঘর্ষ বা আটক ছিল কিনা, আঘাত বা বাঁধনের চিহ্ন, মোবাইলের অবস্থান এবং ময়নাতদন্তে ডুবে মৃত্যু ছাড়া অন্য আলামত আছে কিনা।

সুমনের সঙ্গে নৌভ্রমণে থাকা ২০ থেকে ২২ জন ও মাঝির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কিনা, নৌকা থেকে নামার সময় কারা ছিলেন, কোনও ভিডিও, সিসিটিভি, মোবাইল লোকেশন বা কল রেকর্ড সংগ্রহ হয়েছে কিনা— এসবের উত্তর জরুরি বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আরিফের সর্বশেষ অবস্থান, সঙ্গী, কল ডিটেইলস এবং মরদেহে আঘাত, বাঁধনের চিহ্ন, মাদক বা বিষক্রিয়ার আলামত ছিল কিনা তাও জানতে হবে। রনির মৃত্যু গোসল করতে গিয়ে ডুবে হওয়ার ঘটনা হলে অন্য দুই ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর যে সম্পর্ক নেই— তদন্তে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দেশে মূল আইন ও পদ্ধতিগত আইন দুটোই আছে। কিন্তু বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না হওয়ায় মানুষ ভুক্তভোগী হয়। ভুক্তভোগী কোন দলের বা মতের, সেটি মুখ্য নয়—আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সবার অধিকার নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।”

তিনি বলেন, “গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে এবং স্বজনকে জানাতে হবে। কাউকে জোর করে স্বীকারোক্তি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। প্রতিটি কার্যক্রমে মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “বাস্তবে এসব বিধান সব সময় অনুসরণ হয় না বলে আস্থার সংকট তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা দ্রুত ছড়ানোয় সত্য ও গুজবের সীমারেখা অস্পষ্ট। তাই বিতর্কিত ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানাতে পুলিশ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে, দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছভাবে কাজ করতে হবে।”

পুলিশের বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম রবিবার (২৮ জুন) বিকালে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুরাগ নদ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে ছড়ানো তথ্য, ছবি ও ভিডিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখেছে। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের তুরাগ থানা এলাকায় ধারাবাহিক মরদেহ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ড বা এ সংক্রান্ত অন্য কোনও ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনও অভিযোগ, জিডি বা মামলাও হয়নি। এমনকি প্রচারিত তথ্যের সত্যতাও মেলেনি।”

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন অপর এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, তুরাগ ও আশুলিয়া নদী থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তার ভাষ্য, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। সাত জনের মরদেহ উদ্ধারের গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ সরকার তো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যক্রম অনুসরণ করেছে। সেই আমলে তো গুম খুন হত্যার ঘটনা প্রায় ঘটতো। তদন্তে দেখা যেত এগুলো পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এখনও অনেক ক্ষেত্রে তাই লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যে ঘটেছে তা তো দৃশ্যমান।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যখন খুন বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল, তখন বিএনপি বলেছিল নির্বাচন দেন। নির্বাচন দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে। নির্বাচন করলো ক্ষমতায় আসলো। কিন্তু দেশে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়নি। এটা সত্যি হতাশাজনক। দেশে যদি আসলে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে কখনও এগুলো বন্ধ করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার কমিশন যদি শক্তিশালী হতো, গুম কমিশন হতো, তাহলে কিন্তু প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বাধীনভাবে তদন্ত সাপেক্ষে বিচার হতো। কিন্তু তারা বিচার বিভাগটাকেই দলীয়করণ করে রেখেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি তারা ফিরিয়ে এনেছে। অথচ সরকারের উচিত দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য কাজ করা।”

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের সুযোগ নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গুম অধ্যাদেশ বাতিলের সময় বিএনপি সংসদে সবার সম্মতিতে আরও শক্তিশালী আইন করার কথা বলেছিল।” এখন গুম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর কাঠামোগত সংস্কারের বদলে নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের সংকট কাটেনি।” তার দাবি, সংস্কারের কথা বললে তাদের ‘নির্বাচনবিরোধী’ বলা হয়েছিল। প্রশাসন, আইন অঙ্গন ও পুলিশে দলীয় সমর্থকদের বসানো এবং পুরোনো একদলীয় বন্দোবস্তের দিকে ঝোঁক পরিস্থিতি সামাল দেওয়াকে দুর্বল করেছে। তবে আওয়ামী লীগের আমলের মতো পরিস্থিতিতে বিএনপি যেতে পারবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।