দিল্লি বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দেশে ফিরে আসার ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আজ দিনশেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদেরকে জানাব।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ‘অপ্রীতিকর ঘটনার’ পর দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন-নিউজ ১৮’ সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচ লিস্ট) নাম থাকার কারণে দিল্লির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জাহেদ উর রহমানকে বিমানবন্দরে ‘কিছুক্ষণ আটকে’ রাখে। রুটিন তল্লাশির সময় তার নামটি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নজরে আসে এবং তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে সেখানে থামানো হয়।
সফরের উদ্দেশ্য
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে অংশ নিতে তিনি ভারতে যাচ্ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পাসপোর্ট ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার কাছে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না। তিনি সার্কের স্টিকারযুক্ত সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তবে তার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র (নোট ভারবাল) পাঠিয়েছিল। এমনকি রোববার বিকেলে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ নিজে দিল্লি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তী অবস্থা
নয়াদিল্লির একটি সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, বিমানবন্দরে জটিলতা তৈরির পর ‘উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে’ ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে এমন আচরণের পর উপদেষ্টা নিজেই দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং কলম্বো হয়ে ট্রানজিট নিয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন।



