ছাত্রদল-জাসাস নেতা ক্রসফায়ার: এসপির নির্দেশে গ্রেপ্তারের জবানবন্দি
ছাত্রদল-জাসাস নেতা ক্রসফায়ার: এসপির নির্দেশে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ মঙ্গলবার এক পুলিশ কর্মকর্তা জবানবন্দি দিয়ে বলেছেন, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের ক্রসফায়ার দেওয়া হয়।

সাক্ষীর বক্তব্য

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খলিলুর রহমান ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বরিশালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বরিশালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনে এসআই হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার বিবরণ

২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ক্রসফায়ারের শিকার হন। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অপর দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসপির নির্দেশ

জবানবন্দিতে খলিলুর বলেন, ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ তাঁকে ডাকেন। এসপির অফিসে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানে আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম ও তৎকালীন ওসি মনিরুল ইসলাম উপস্থিত। তখন এসপি বলেন, আসামি কবির মোল্লা ও টিপু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করার জন্য এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। এই আসামিদের যেকোনো মূল্যে ধরতে হবে। না ধরলে চাকরি থাকবে না। এসপি আরও বলেন, ‘তোমরা দুজন ঢাকা ডিবি অফিসে যাবা, ডিএমপির (ঢাকা মহানগর পুলিশ) ডিসি (ডিবি) স্যারের সাথে ও ডিবির মুখপাত্র মনিরুজ্জামান স্যারের সাথে কথা হয়েছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার অভিযান

জবানবন্দিতে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এসপির নির্দেশ অনুযায়ী এসআই নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকা ডিবির ডিসির সঙ্গে দেখা করেন। ডিএমপির ডিবির ডিসি তৎকালীন এসি মহরমের সঙ্গে তাঁদের সংযুক্ত করে দেন। এসির নির্দেশে তাঁরা কাজ করেন। এসি মহরম বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করেন এবং ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আশুলিয়ার কুরগাঁও পুরাতনপাড়া থেকে কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেন। একই রাতে কেরানীগঞ্জের মধ্যেরচর থেকে টিপু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ক্রসফায়ারের ঘটনা

এই দুই আসামিকে নিয়ে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে যান বলে উল্লেখ করেন খলিলুর। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁরা বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটার একটু আগে তিনি নেমে যান। এসআই নজরুল ইসলাম আসামিদের নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে চলে যান। পরে জানতে পারেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।