মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। একইসঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে দুই দেশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে নেতৃত্ব ও প্রতিনিধি দল
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন ও বক্তব্য
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।
১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও বহুমুখী অংশীদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভিসা ও অভিবাসন বিষয়ে আলোচনা
বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে আসিয়ানে বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থনও প্রত্যাশা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভিয়েতনামের আশ্বাস
জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করে।



