ইরানে আক্রমণের সাহস দেখাবে না কোনো দেশ: আয়াতুল্লাহ খাতামির সতর্কবার্তা
ইরানে আক্রমণের সাহস দেখাবে না কোনো দেশ: খাতামি

ইরানে আক্রমণের সাহস দেখাবে না কোনো দেশ: আয়াতুল্লাহ খাতামির সতর্কবার্তা

ইরানের ওপর কোনো দেশই আক্রমণ করার সাহস দেখাবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন তেহরানের একটি মসজিদে জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন। খাতামি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, কেউ যদি হামলার চেষ্টা করেও, তাতে কোনো লাভ হবে না এবং ইসলামী বিপ্লব টিকে থাকবে।

ট্রাম্পের মিথ্যাচারের তীব্র সমালোচনা

আলোচনা প্রক্রিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ প্রসঙ্গে আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেন, বিশ্ব নেতাদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মিথ্যাচারের প্রবণতা আর কারো নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ট্রাম্প নিয়মিত অসংখ্য বার্তা প্রকাশ করেন এবং হাজারো মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। তাই এমন ব্যক্তির বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ও অনাস্থাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখা উচিত।

প্রয়াত নেতা খামেনির উদ্ধৃতি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্ধৃত করে ইমাম খাতামি বলেন, ‘শত্রুর হাসির প্রতিও অবিশ্বাস রাখা উচিত, বিশেষ করে ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, যাকে তিনি (খামেনি) মিথ্যার প্রতিমূর্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, অপমানজনক শর্তে কোনো আলোচনা ইরানের জনগণ মেনে নেবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসলামাবাদ আলোচনা ও ইরানের দৃঢ়তা

সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের ভূয়সী প্রশংসা করে খাতামি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দাবি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানি প্রতিনিধিরা আলোচনা টেবিল ছেড়ে উঠে আসেন। তার ভাষায়, ওয়াশিংটন যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি, তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাতামি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘কেউ ইরানে হামলার সাহস করবে না। আর হামলা হলেও তাতে কিছুই হবে না।’ তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ খামেনি ও কয়েকজন সামরিক কমান্ডার হত্যার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিনব্যাপী পাল্টা হামলা চালায়।

পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। তবে ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় এই আলোচনা। খাতামির এই বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা প্রতিফলিত করে।