ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠক, যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তীব্র বিতর্ক
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানে সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বুধবার জেনারেল আসিম মুনির ইরানে পৌঁছানোর পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছে, তবে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
লেবাননকে যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্তির দাবি
বৈঠকের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যেকোনও যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি লেবানন ইস্যুতে অগ্রগতির জন্য হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের ঐক্যকে বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি বার্তা সংস্থা ইসনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধের হুমকি দিলেও ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনায় ইরান তাদের শর্তের বিষয়ে কোনও আপস করবে না এবং দেশটি যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে রেজায়ি বলেন, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির ‘পুলিশ’ হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর তাদের অধিকার কখনোই ছেড়ে দেবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, হরমুজ প্রণালি ইরানের সার্বভৌমত্বের একটি অপরিহার্য অংশ এবং যেকোনও বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা হবে।
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, রুশ সংবাদমাধ্যম রিয়া নভোস্তির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হতে পারে। বাঘাই এই অবরোধকে একটি ‘উসকানিমূলক কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল, মার্কিন অবরোধের ঘোষণায় তার স্থায়িত্ব এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ ইরানের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।



