নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলার পলাতক আসামি রানার প্রকাশ্যে দেখা, পুলিশের অভিযানে প্রশ্ন
হত্যা মামলার পলাতক রানার প্রকাশ্যে দেখা, পুলিশের অভিযানে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলার পলাতক আসামি রানার প্রকাশ্যে দেখা, পুলিশের অভিযানে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত অভিযানে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। আলোচিত শুভ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে সোমবার শহরের চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এই ঘটনা পুলিশের তদন্ত ও অভিযানে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, কারণ পুলিশ দাবি করছে রানা পলাতক এবং তাকে ট্রেস করা যাচ্ছে না।

শুভ হত্যা মামলার পটভূমি

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে শুভকে সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে এনে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার একটি গ্যারেজে মারধর করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় শুভকে একটি ইজিবাইকে তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ৩০ মার্চ রূপগঞ্জের কালনী এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে শুভর লাশ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হতে না পেরে বেওয়ারিশ হিসেবে শুভর লাশ দাফন করা হয়।

শুভর মা মাকসুদা বেগম গত ১ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নামে ও চার-পাঁচ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২ এপ্রিল পুলিশ রূপগঞ্জে উদ্ধার হওয়া লাশের ছবি দেখালে সেটি শুভর বলে নিশ্চিত করেন তার বাবা-মা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রানার প্রকাশ্যে উপস্থিতি ও পুলিশের বক্তব্য

মামলা দায়েরের ১৩ দিন পর, গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে রানাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়। তার চলাফেরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়, যা জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অথচ শুভ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিলন ফকির থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, রানা পলাতক এবং তাকে ট্রেস করা যাচ্ছে না। ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, মামলায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রানার প্রকাশ্যে দেখা যাওয়া পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, পলাতক আসামির এভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলতে পারে।

সম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রভাব

নারায়ণগঞ্জে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পলাতক আসামির প্রকাশ্যে উপস্থিতি অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও, ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযানের মতো সরকারি কার্যক্রমে এমন ব্যক্তির অংশগ্রহণ প্রশাসনিক দুর্বলতা নির্দেশ করতে পারে।

ভবিষ্যতে এই মামলার তদন্ত কীভাবে এগোবে এবং রানাকে গ্রেফতারে পুলিশের সক্ষমতা কতটা, তা এখন সবার নজরে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়।