সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দাবি: ইসরাইলের চাপে শুধু ট্রাম্পই সম্মত হয়েছিলেন ইরান হামলায়
কেরি: ইসরাইলের চাপে শুধু ট্রাম্পই সম্মত হন ইরান হামলায়

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির গুরুত্বপূর্ণ দাবি: ইসরাইলের চাপে শুধু ট্রাম্পই সম্মত হয়েছিলেন ইরান হামলায়

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি একটি সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টরা এতে সম্মত না হলেও একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন।

সাক্ষাৎকারে কেরির বক্তব্য

শুক্রবার ‘দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেরি বলেন, তিনি নিজেও একাধিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন যেখানে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কেরির ভাষায়, ‘তিনি আমাদের দিয়ে ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন।’ তিনি জানান, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব সরাসরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে উপস্থাপন করেন। এছাড়াও ওবামা, জো বাইডেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ—কেউই এতে রাজি হননি।

চার দফা প্রস্তাব ও ট্রাম্পের সম্মতি

কেরি আরও বলেন, একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি এতে সম্মত হয়েছেন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, নেতানিয়াহু সামরিক হামলার পক্ষে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন, যেটিকে তিনি ‘চার দফা প্রস্তাব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কেরি দাবি করেন, ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, এ ধরনের হামলা ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে পারে, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনাগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিলেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানে যৌথ হামলা ও এর পরিণতি

উল্লেখ্য, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায়, যেখানে তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এই হামলার জবাবে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয় তেহরান।

কেরির এই দাবি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে মার্কিন-ইসরাইলি সম্পর্ক এবং ইরানের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। এটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রভাবের দিকগুলোকে উন্মোচিত করছে।