অমিত শাহের সীমান্তে কুমির-সাপ ছাড়ার প্রস্তাব: চার্চিলীয় অমানবিকীকরণের প্রতিধ্বনি
অমিত শাহের কুমির-সাপ প্রস্তাব: চার্চিলীয় অমানবিকীকরণের ছায়া

অমিত শাহের সীমান্তে কুমির-সাপ ছাড়ার প্রস্তাব: চার্চিলীয় অমানবিকীকরণের প্রতিধ্বনি

ভারতের বিজেপি সরকারের প্রভাবশালী সদস্য অমিত শাহ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তথাকথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব করেছেন। এই প্রস্তাবটি ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে উইনস্টন চার্চিলের মতো নেতারা ভারতীয়দের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করতেন। চার্চিল ভারতীয়দের 'পশুর জাত' বলে আখ্যায়িত করতেন এবং মহাত্মা গান্ধীকে 'ন্যাংটা ফকির' বলতেন, যা ঔপনিবেশিক দম্ভের প্রকাশ ছিল।

ঐতিহাসিক অমানবিকীকরণের ধারা

চার্চিলের মতো রাজনীতিবিদদের মধ্যে অপছন্দের জনগোষ্ঠীকে পশু বা কীটপতঙ্গের সাথে তুলনা করার একটি পুরোনো প্রবণতা রয়েছে। অ্যাডলফ হিটলার ইহুদিদের 'ইঁদুর' বলতেন, ওসমানীয় শাসকগোষ্ঠী আর্মেনীয়দের 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে চিহ্নিত করতেন। উপনিবেশকালে ইউরোপীয় শাসকেরা আফ্রিকা ও এশিয়ার মানুষদের 'স্যাভেজ' বা জংলি বলে অভিহিত করতেন, যা শোষণকে বৈধতা দিত।

সমাজবিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াকে ডিহিউম্যানাইজেশন বা অমানবিকীকরণ বলে বর্ণনা করেন। যখন কোনো জনগোষ্ঠীকে মানুষের বদলে পশু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন তাদের প্রতি সহমর্মিতা কমে যায় এবং সহিংসতা বৈধ হয়ে ওঠে। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে হুতুদের প্রচারণায় তুতসিদের 'তেলাপোকা' বলে চিহ্নিত করে গণহত্যার পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অমিত শাহের ভাষা ও তার প্রভাব

অমিত শাহ ২০১৮-২০১৯ সালে অনুপ্রবেশকারীদের 'উইপোকার মতো' বলে বর্ণনা করেছিলেন, যা এখন কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাবে রূপ নিয়েছে। এই ভাষা শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা 'আমরা বনাম তারা' বিভাজন তৈরি করে এবং উগ্রতা উসকে দিতে পারে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাব সীমান্তে নজরদারির পাশাপাশি জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারের ভাবনা তুলে ধরছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশ্ন উঠছে: মানুষ বা যেকোনো প্রাণীর প্রাণনাশের বাসনায় জলাভূমিতে বিষধর সাপ ও মানুষখেকো কুমির ছাড়া কি নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য? এই প্রস্তাব নতুন যুগের চার্চিলীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যা অমানবিকীকরণের বিপজ্জনক রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখে।

উপসংহার: ইতিহাস থেকে শিক্ষা

চার্চিলের ভাষা আজ ইতিহাসে সমালোচিত, এবং আশা করা যায় যে ভারতের মতো স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতারা এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবেন। অমিত শাহের প্রস্তাব স্মরণ করিয়ে দেয় যে অমানবিকীকরণের ভাষা কেবল শব্দ নয়, বড় সহিংসতার পূর্বসূচনা। রাজনীতিবিদদের উচিত উত্তেজনাপূর্ণ ভাষা এড়িয়ে মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া, যাতে কোনো জনগোষ্ঠীই পশু বা কীটপতঙ্গের সাথে তুলনীয় না হয়।