নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির চিঠি ও সময়সীমা
সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈনুদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বুধবার এই বিষয়ে জানানো হয়। একই দিনে তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন প্রার্থী বৈধ ঘোষিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার একটি গেজেট প্রকাশ করবে।
আপিল ও আদালতের নির্দেশ
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন প্রার্থী কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছেন, অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুম একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
‘নিষ্পত্তি’ শব্দটি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে তার মনোনয়নপত্র আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ ও পরীক্ষা করা হবে। যাচাইয়ের পর তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে অথবা তার মনোনয়ন বাতিল হতে পারে।
বর্তমান বৈধ প্রার্থীদের তালিকা
মঈনুদ্দিন খান বলেছেন, বর্তমানে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্রদের থেকে ৩৬ জন, জামায়াত-ই-ইসলামী ও তার জোটসঙ্গীদের থেকে ১২ জন এবং একটি স্বতন্ত্র জোট থেকে একজন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ৪৯ জন বৈধ প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও প্রদর্শিত হয়েছে।
তিনি যোগ করেন, সংরক্ষিত আসন আইনের ধারা ১২(২) অনুযায়ী, এই তালিকা বৃহস্পতিবার সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ও আদালতের রায়
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। তবে নুসরাত তাবাসসুম সময় শেষ হওয়ার ১৯ মিনিট পরে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করেননি। তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধারের জন্য নুসরাত তাবাসসুম ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানির পর আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।



