যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে বিক্ষোভের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের নেতারা।

বিক্ষোভ মিছিলের তারিখ ও সময়

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ১১ মে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সপ্তাহব্যাপী প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগ করা হবে।

চুক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবের আহমেদ জুবেল। সেখানে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামক একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কৃষি খাত, স্থানীয় শিল্প, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্যঘাটতি দূর করার অজুহাতে এই চুক্তিতে একতরফা সুবিধা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাবের বলেন, চুক্তির শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ আমেরিকা থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য থাকবে। বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত নানা অসম শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের পোলট্রি, ডেইরি, ওষুধ শিল্পসহ কৃষি ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া আমেরিকা থেকে সামরিক অস্ত্র কিনতেও বাংলাদেশ বাধ্য থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে কার্যত দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, এমনকি পররাষ্ট্রনীতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাবের। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রকল্পের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এককথায় এই চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী একটি চুক্তি।

চুক্তির শর্তাবলি

জাবের বলেন, চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি (এলএনজি), ১৫টি বোয়িং বিমান, প্রতিবছর সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, গরুর মাংস ইত্যাদি) কিনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬ হাজার ৭১০টি পণ্য বিনাশুল্কে আমদানি করতে দিতে হবে, যা দেশের স্থানীয় শিল্পের বিকাশের জন্যে হুমকিস্বরূপ।

অন্যান্য নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চৌধুরী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি ছায়েদুল হক নিশান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীন ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সভাপতি সমর চাকমা।