হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী আইসিসি থেকে প্রত্যাহার বাতিল করবেন, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা
হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী আইসিসি প্রত্যাহার বাতিল করবেন

হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী আইসিসি থেকে প্রত্যাহার বাতিল করবেন, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে দেশকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মাজিয়ারের দেওয়া একটি পরোক্ষ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। কারণ, আইসিসিতে সদস্যপদ বজায় রাখার অর্থ হলো, ওই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা যেকোনো ব্যক্তি হাঙ্গেরির ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মাজিয়ারের স্পষ্ট ঘোষণা ও নেতানিয়াহু প্রসঙ্গ

বুদাপেস্টে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাজিয়ার বলেন, তিনি বিষয়টি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। মাজিয়ার উল্লেখ করেন, 'আমি বিশ্বাস করি, দেশ যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয় এবং ওই আদালতের পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাহলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই আটক করতে হবে।' এই বক্তব্য নেতানিয়াহুর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

হাঙ্গেরির রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আইসিসি সিদ্ধান্ত

সম্প্রতি হাঙ্গেরির নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের দল ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এর আগে গত বছর অরবান ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অন্যতম একটি কারণ ছিল তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নিতে পারছিলেন না। আইসিসি থেকে হাঙ্গেরিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আগামী ২ জুন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। আর তা কার্যকর হলে হাঙ্গেরি হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একমাত্র দেশ, যাদের আইসিসির সদস্যপদ থাকত না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার তা চান না। তিনি বলেন, তার দল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং তারা এই প্রক্রিয়া 'বন্ধ করবেন'। এই সিদ্ধান্ত হাঙ্গেরির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্বিবেচনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক সম্পর্ক

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। এ কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে এবং ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে একাধিকবার সফর করতে পেরেছেন। ইরানে হামলা শুরু করার আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনই হাঙ্গেরির ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, অরবান যেন ক্ষমতায় টিকে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি হয়। এখন মাজিয়ারের নতুন নীতি হাঙ্গেরির বৈদেশিক সম্পর্কে পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও রাজনীতির জটিল মিথস্ক্রিয়াকে ফুটিয়ে তুলছে, যা বিশ্বব্যাপী নজর কেড়েছে।