ইরানি অর্থ দিয়ে মিত্রদের ক্ষতিপূরণের মার্কিন পরিকল্পনায় তেহরানের তীব্র প্রতিবাদ
ইরানি অর্থ দিয়ে মিত্রদের ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনায় তেহরানের প্রতিবাদ

উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে ইরানি অর্থ ব্যবহারের মার্কিন পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী স্পষ্ট করেছেন যে আঞ্চলিক কোনো সরকারের ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার নেই।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো যুদ্ধের লুট নয়, কিংবা তাদের বন্ধুদের দেওয়ার কোনো তহবিলও নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন পরিকল্পনার বিবরণ

ওয়াশিংটন মূলত ইরানের জব্দকৃত অর্থ দিয়ে তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের অতীত ও ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত শনিবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি আকাশেই ধ্বংস করেছে। এই ঘটনায় কুয়েতে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো মানুষ হতাহত হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনৈতিক প্রভাব

তবে গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, এই সংকটে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের অনুমতি ছাড়া তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা স্থানান্তর করা হলে তা হবে একটি নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ। আমেরিকার এমন পদক্ষেপ চলমান শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ইরান এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে বিতর্ক

ঘারিবাবাদী আরও বলেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ নিজেদের মাটি ও সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে, তাই তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং তাদেরই উচিত ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। উল্লেখ্য, সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা শত কোটি ডলার ছাড় করার দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান।

ইরানের শর্ত

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো তাদের স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করা, সব মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়া।

সূত্র: রয়টার্স