ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মশাল মিছিল

শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, হত্যার পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিতকরণ, পলাতক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মশাল মিছিলের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের ওসমান হাদি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য

মিছিল শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদুর রহমান আদনান বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইনকিলাব মঞ্চকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা ওসমান হাদি হত্যার বিচারের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সরকার কার্যক্রম শুরু করার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তার বক্তব্যে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় তাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন একটি গুরুতর বক্তব্য দেন, তখন সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু সরকার সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন দেশে গোপন অভিযানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারের উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ক্ষমতায় আসার তিন মাস পার হলেও ওসমান হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই, ভারত থেকে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তার সময়সীমা কতদিন? তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি জীবনের শেষদিকে তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন না একদিন হবেই।

আগামী কর্মসূচি

সমাবেশ থেকে জাবের শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।