ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এবং শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বার্নিয়া অন্তত দুইবার আবুধাবি সফর করেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের কান নিউজ জানিয়েছে, জিনিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমিরাত সফর করেছেন।
গোপন সফরের উদ্দেশ্য
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জেনারেল আমির বারামের নেতৃত্বে একটি নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল আমিরাত সফর করে। আরব কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে বার্নিয়ার সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে তেল আবিব ও আবুধাবির মধ্যে সামরিক সমন্বয় জোরদার করা।
শিন বেতের প্রধানও আমিরাতে
প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, কান নিউজ বুধবার (১৩ মে) জানিয়েছে, শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিও সম্প্রতি আমিরাত সফর করেছেন। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত একাধিক ‘গোপন হামলা’ চালিয়েছে।
গোপন হামলা ও প্রতিরক্ষা সহায়তা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এপ্রিলের শুরুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমিরাত ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। গত মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের পর ইসরাইল আবুধাবিকে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠায় এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা মোতায়েন করে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দুই ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর জরুরি সহায়তা চেয়ে মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবুধাবি।
ইরানের অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি
ইরানি কর্তৃপক্ষ বারবার অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীকে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে, ইরানি ব্যক্তি ও স্থাপনা সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে এবং মার্কিন হামলার জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আগ্রাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ৪০ দিনের যৌথ অভিযানে বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে বিমান হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শতাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি অবস্থান এবং অধিকৃত ভূখণ্ডের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তেহরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনে সহযোগিতাকারী দেশকে সরাসরি দায়ী করা হবে।



