ট্রাম্পের রাতের পোস্টের রহস্য ফাঁস: কে এই নাতালি হার্প?
ট্রাম্পের রাতের পোস্টের রহস্য: নাতালি হার্পের ভূমিকা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর তার গভীর রাতের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টগুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাঝরাতে রিপোস্ট, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, এআই-জেনারেটেড মিম আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপর আক্রমণ; সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ফিড যেন বিরতিহীন এক ‘মাগা’ কন্টেন্ট মেশিন। আর এই মেশিনটি সচল রাখার নেপথ্যে থাকা মূল কারিগরের পরিচয় এবার সামনে এসেছে, তিনি নাতালি হার্প।

নাতালি হার্প কে?

৩৪ বছর বয়সী নাতালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অনুগত এবং তার এক্সিকিউটিভ এইড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্দার আড়ালে থেকে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম পরিচালনায় নাতালি এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার কাজের প্রক্রিয়াটিও বেশ চমকপ্রদ। হার্প বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে মিম, স্ক্রিনশট, প্রশংসা এবং ষড়যন্ত্রমূলক কন্টেন্ট সংগ্রহ করে সেগুলো ড্রাফট হিসেবে প্রিন্ট করে ট্রাম্পের সামনে পেশ করেন। ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলেই হার্প তার অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে ঝড়ের গতিতে সেগুলো পোস্ট করতে থাকেন, যা অনেক সময় কর্মঘণ্টার বাইরে গভীর রাত পর্যন্ত চলে।

পরিসংখ্যান ও বিতর্ক

পরিসংখ্যান বলছে, ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রায় ৮ হাজার ৮০০ বার পোস্ট করেছেন। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪ বার এমন রাত দেখা গেছে, যেখানে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে ট্রাম্প ডজনখানেক বা তার বেশি পোস্ট করেছেন। এমনকি এপ্রিলের এক রাতে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ৫৪টি পোস্ট করার রেকর্ডও রয়েছে, যার মধ্যে বারাক ওবামাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়েছিল। হার্পের এই প্রভাব হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তাকেই ক্ষুব্ধ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনও পোস্ট করার আগে তিনি চিফ অব স্টাফ বা জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কোনও তোয়াক্কাই করেন না। তিনি সহকর্মীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সরাসরি প্রেসিডেন্টের জন্য কাজ করেন এবং কেবল তার কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্প্রতি ঘটনা

সম্প্রতি ওবামা দম্পতিকে নিয়ে বর্ণবাদী একটি ভিডিও এবং ট্রাম্পকে যিশুর মতো চিত্রিত করা একটি এআই ছবি পোস্ট করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে তা মুছে ফেলা হয়। ট্রাম্প পরে দাবি করেন, অনুমোদনের আগে তিনি ভিডিওর আপত্তিকর অংশটি খেয়াল করেননি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একে ‘সম্পাদনার ভুল’ বলে দায় এড়ানো হয়।

প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন পরিচালক স্টিভেন চুং অবশ্য এই প্রক্রিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তার মতে, ট্রাম্পের এই সরাসরি এবং বাছাইহীন বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে কার্যকর। সমালোচকরা বিষয়টিকে উদ্বেগের চোখে দেখলেও ট্রাম্প-সমর্থকদের কাছে প্রেসিডেন্টের এই বিশৃঙ্খল ও সার্বক্ষণিক অনলাইন উপস্থিতিই তার রাজনীতির প্রধান আকর্ষণ। আর এই আকর্ষণের চাকা সচল রাখতে রাত জেগে কাজ করে যাচ্ছেন নাতালি হার্প।