তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তার ব্যক্তিগত জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে 'অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি' (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। মিত্র ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে বুধবার (১৩ মে) নিয়োগের মাত্র একদিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিজয়ের ঘনিষ্ঠ জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওএসডি পদে বসানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়। বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগামকে (টিভিকে) সমর্থনকারী দলগুলোর মধ্যে ভিসিকে (ভিসি কে), সিপিআই(এম) এবং সিপিআই প্রকাশ্যে এই নিয়োগের বিরোধিতা করে।
মিত্রদের প্রতিক্রিয়া
বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে ভিসিকে বিধায়ক বাণী আরসু সরকারকে 'বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা' অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমাদের সরকারের উচিত জ্যোতিষশাস্ত্র নয়, বিজ্ঞানমনস্কতাকে প্রাধান্য দেওয়া। কুসংস্কারকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।' সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম বলেন, 'জনগণের টাকায় জ্যোতিষীকে সরকারি পদে নিয়োগ করা মানে কুসংস্কারকে উৎসাহিত করা।' সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক এম ভিরাপান্ডিয়ানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
এই ঘটনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার জ্যোতিষীদের ওপর নির্ভরশীলতার প্রসঙ্গও আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডিএমডিকে নেত্রী প্রেমলতা বিজয়কান্ত এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করে বলেন, 'বিজয় বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারের সামনে ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জ্যোতিষী যদি তার গুরু হয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখুন। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী বার্তা দিতে চাইছেন তিনি?'
পিছু হটতে বাধ্য বিজয়
মিত্রদলগুলোর এই তীব্র অসন্তোষের কারণে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয়েছে বিজয়কে। তবে ভিসিকে ও বাম দলগুলো এখনো টিভিকে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেনি। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয়ের প্রথম দিকের এই ধরনের সিদ্ধান্ত তার ভাবমূর্তিতে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে।



