দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান: কেন এমন হলো?
দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় রাজনীতির উত্থানের কারণ

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস মূলত বহুত্ববাদ, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ইতিহাস। বহু ভাষা, বহু জাতি, বহু ধর্ম ও বহু পরিচয়ের মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলে একসঙ্গে বসবাস করেছে। এখানকার সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও রাজনৈতিক চেতনা দীর্ঘদিন ধরে বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে দেখেছে। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির ক্রমবর্ধমান উত্থান এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—কেন এমন হলো? যে অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো স্বাধীনতার পর আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিল, সেখানে ধর্মীয় রাজনীতি কেন এত শক্তিশালী হয়ে উঠল?

এই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র ধর্মীয় অনুরাগ বা মানুষের ধর্মচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাস্তবতা হলো—এ অঞ্চলের নাগরিকেরা যতটা ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে ঝুঁকেছে, তার চেয়েও বেশি তারা ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের দিকে আকৃষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম এখানে কেবল আধ্যাত্মিকতার বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে নিরাপত্তা, পরিচয়, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভাষায় রূপান্তরিত হয়েছে।

ভিন্ন পথে একই গন্তব্য

ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় তাদের অভিজ্ঞতা আশ্চর্যজনকভাবে এক। তিন দেশেই স্বাধীনতার পর প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ বা জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলো রাষ্ট্র গঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব শক্তির একটি বড় অংশ জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যায়। দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের সংকট জনগণের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করে। এই শূন্যস্থান পূরণে ধর্মভিত্তিক দলগুলো নিজেদের ‘নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে হাজির করতে সক্ষম হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাকিস্তানের ধর্মীয় রাষ্ট্রায়ত্তকরণ

পাকিস্তানের উদাহরণ সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রটির জন্মই হয়েছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও পাকিস্তান দীর্ঘদিন একটি সাংবিধানিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। সামরিক শাসন বারবার ইসলামকে রাজনৈতিক বৈধতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিশেষত জিয়াউল হকের সময় রাষ্ট্রীয় ইসলামায়ন পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ফলে ধর্মীয় দলগুলো শুধু রাজনীতির অংশই হয়নি, রাষ্ট্রের আদর্শগত কাঠামোরও অংশ হয়ে ওঠে।

ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান

ভারতের বাস্তবতা ভিন্ন হলেও উদ্বেগের জায়গা কম নয়। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণাকে ধারণ করে। কিন্তু গত কয়েক দশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান ভারতীয় রাজনীতিকে নতুন পথে নিয়ে গেছে। এর পেছনে কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং পরিচয়ের রাজনীতি বড় ভূমিকা রেখেছে। বহু মানুষ মনে করতে শুরু করেছে যে, তাদের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় পরিচয় হুমকির মুখে। রাজনৈতিক শক্তিগুলো সেই অনুভূতিকে সংগঠিত ভোটব্যাংকে রূপান্তর করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্রচারণা এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় পুনরুজ্জীবন

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আবার কিছুটা ভিন্ন। রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক শাসন এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে ধর্মীয় রাজনীতি ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হয়। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে ধর্মকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছে। ফলে সমাজে এমন একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে ধর্ম কেবল বিশ্বাসের বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্যেরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বর্তমান বিস্তারকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে বিশ্লেষণ করলে পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হয় না। কারণ এ অঞ্চলের রাজনীতি ক্রমশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাবের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতাকেই বদলে দেয়নি; এর প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির শক্তিশালী উত্থান এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।

বাংলাদেশে যেমন ইসলামপন্থি রাজনীতির বিভিন্ন ধারা নতুনভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, তেমনি পাকিস্তানেও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভাষা আরও কঠোর হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয়’ এখন রাজনৈতিক বৈধতার এক নতুন মানদণ্ডে পরিণত হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ধীরে ধীরে নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন থেকে সরে গিয়ে পরিচয়ভিত্তিক মেরুকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগজনক পরিবর্তন।

একই সঙ্গে এ অঞ্চলের এক দেশ আফগানিস্তানের পরিস্থিতিও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। তালেবানের পুনরুত্থান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন নয়; এটি সমগ্র অঞ্চলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য একটি প্রতীকী ঘটনা হয়ে উঠেছে। বহু গোষ্ঠী এটিকে ‘ধর্মীয় শক্তির বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। যদিও আফগানিস্তানের বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘ যুদ্ধ, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ফল, তবুও এর মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অস্বীকার করার উপায় নেই।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন। বিশ্বজুড়ে এখন পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, ডানপন্থি জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ইউরোপে অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি, আমেরিকায় ধর্মীয় রক্ষণশীলতার উত্থান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—সব মিলিয়ে একটি বৈশ্বিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে ধর্ম আবার রাজনৈতিক ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াও সেই বৈশ্বিক প্রবাহের বাইরে নয়।

ধর্মীয় রাজনীতির মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সবসময় মানুষের অধিক ধর্মপরায়ণ হয়ে ওঠার প্রমাণ নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই এটি সামাজিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক বঞ্চনা ও সাংস্কৃতিক উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। যখন নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যায়বিচার, সমতা বা নিরাপত্তা পায় না, তখন তারা পরিচয়ের নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। ধর্ম সেই আশ্রয়কে সহজে দিতে পারে, কারণ ধর্ম মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও সামাজিক সম্পর্কের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

প্রশ্ন হলো, প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব কেন কমে গেল? এর একটি বড় কারণ হলো, তারা অনেক ক্ষেত্রে জনগণের বাস্তব সংকটের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ হারিয়েছে। শ্রমিক, কৃষক, নিম্নবিত্ত, সংখ্যালঘু কিংবা তরুণদের জীবনসংগ্রামের ভাষা তারা যথেষ্ট শক্তভাবে ধারণ করতে পারেনি। অনেক প্রগতিশীল দল তাত্ত্বিকভাবে আধুনিকতার কথা বললেও সাংগঠনিকভাবে গণমানুষের ভেতরে গভীর শিকড় গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় দলগুলো মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করেছে।

বহুত্ববাদ বনাম সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ

তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্মীয় রাজনীতি যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের দিকে এগোয়, তখন বহুত্ববাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন নাগরিক পরিচয়ের চেয়ে ধর্মীয় পরিচয় বড় হয়ে ওঠে। ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, ভিন্নমত, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য চাপের মুখে পড়ে। রাজনৈতিক বিতর্ক নীতিনির্ভর না হয়ে আবেগনির্ভর হয়ে ওঠে। গণতন্ত্র তখন কেবল ভোটের ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে; নাগরিক স্বাধীনতা ও সহনশীলতার জায়গা সংকুচিত হতে থাকে।

তাহলে কি এ অঞ্চলের রাজনীতি ভবিষ্যতে ধর্মীয় বিভাজনের পথেই চলবে? সম্ভবত এককভাবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজ এখনো বহুত্ববাদী বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এখানে ভাষা, সংস্কৃতি, শ্রেণি, আঞ্চলিকতা ও সামাজিক বৈচিত্র্য এত গভীর যে, কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে পরিচালনা করা সহজ নয়। তবে যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হতে থাকে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ে এবং রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের বাস্তব সমস্যার বদলে আবেগের রাজনীতি করতে থাকে, তাহলে ধর্মভিত্তিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে।

উত্তরণের পথ

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন নতুন রাজনৈতিক কল্পনা। শুধু ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ উচ্চারণ করলেই হবে না; জনগণের ন্যায়বিচার, মর্যাদা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বাস্তব প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে। প্রগতিশীল রাজনীতিকে মানুষের সাংস্কৃতিক অনুভূতিকে অস্বীকার না করে বরং গণতন্ত্র, সহাবস্থান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে হবে। ধর্মকে শত্রু হিসেবে নয়, বরং নাগরিক রাষ্ট্রের সীমার ভেতরে একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিশ্বাস হিসেবে দেখার রাজনৈতিক পরিপক্বতা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সামাজিক অনিশ্চয়তা, পরিচয়ের সংকট, বৈশ্বিক মেরুকরণ এবং ক্ষমতার কৌশলগত ব্যবহারের ফল। যে অঞ্চল একসময় বহুত্ববাদ, সংস্কৃতিগত সহাবস্থান ও নাগরিক জাতীয়তাবাদের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেই অঞ্চল এখন ধীরে ধীরে পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বিভাজনের ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রকৃত সৌন্দর্য তো বৈচিত্র্যের মধ্যে সহাবস্থান। সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে না পারলে এই অঞ্চলের রাজনীতি আরও বিভক্ত, আরও অসহিষ্ণু এবং আরও সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী