জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় মিডিয়ার একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তিনি জেলে গেছেন। আমি আপনার প্রটেকশন দাবি করছি, কারণ আমরাও বলতে ভয় পাই।’
বাজেট আলোচনায় হাসনাত আবদুল্লাহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিকালে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গুম-খুনকে বৈধতা দিয়েছে, তাদের খুঁটির জোর কোথায়, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা অবশ্য শুনতে পেয়েছি—বললে অনেকে রাগ করেন। আমরা শুনতে পাই এবং সরকার দলেরই অনেকে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারিনি। আমাদের জন্য না, বরং তাদের সহকর্মীদের জন্যই তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়—সেটি আমরা জানি।’
বিএনপির প্রতি আহ্বান
তিনি বলেন, ‘যারা ঋণখেলাপি, যারা ব্যাংক দখল করেছে, যারা গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছে, গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা অন্তত বিএনপির কাছ থেকে কঠোর ব্যবস্থা দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক বিষয় নয়। আমরা স্বাগত জানাই যে তিনি ব্যক্তিগত রাগ-ক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন। কিন্তু আমরা তার কাছ থেকে এবং তার দলের কাছ থেকে শুনতে চাই, গুম-খুনের বিচার তিনি নিশ্চিত করবেন। আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও সুবিচার নিশ্চিত করবেন।’
প্রতিশোধপরায়ণতার শঙ্কা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধপরায়ণতার কথা বলছি না। কিন্তু আজ আমরা আবার এমন কিছু দেখছি, যা আমাদের শঙ্কার মধ্যে ফেলছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি আবার শুরু হচ্ছে। একজন সরকারদলীয় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় মিডিয়ার একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি জেলে গেছেন একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে। তাই আমি আপনার প্রটেকশন দাবি করছি। কারণ আমরাও বলতে ভয় পাই।’
এলাকার বাজেট বঞ্চনার শঙ্কা
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সরকারের সমালোচনা করি, কোনও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলি, কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলি—তাহলে আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার কিন্তু কোনও নিশ্চয়তা নেই। সে কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেই কথা বলার সময় আওয়াজটা একটু কম করে বলে। আপনার কাছে অনুরোধ করি, আমার জন্য যেন আমার এলাকার মানুষ বঞ্চিত না হয়।’



