দেশের সংকটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথ দেখিয়েছে: কায়সার কামাল
দেশের সংকটে ঢাবি পথ দেখিয়েছে: কায়সার কামাল

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ইতিহাস বিভাগ আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের ভূমিকা

কায়সার কামাল বলেন, '১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। যখনই দেশে সংকট নেমে এসেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোকবর্তিকার মতো জাতিকে পথ দেখিয়েছে।'

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, 'আজ এই মিলনায়তনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, আমি যেন আবার ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ফিরে গেছি। এই বিভাগ আমাকে শুধু ইতিহাসের জ্ঞান দেয়নি, মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা, সমাজকে বোঝা এবং দেশ গড়ার সংকল্প নিয়ে কাজ করার শিক্ষা দিয়েছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনা মুখস্থ করার বিষয় নয়। ইতিহাস একটি জাতির আয়না। যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে ভবিষ্যতের পথও সঠিকভাবে খুঁজে পায় না। এখানে আপনারা যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষভাবে সত্যকে মূল্যায়নের শিক্ষা পাবেন, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শৃঙ্খলার গুরুত্ব

নিজের ছাত্রজীবনের একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত ক্লাস করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, অনার্স শেষ বর্ষে প্রয়োজনীয় ক্লাস উপস্থিতি না থাকায় বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেননি। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেও তিনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে পারেননি। তিনি বলেন, 'স্যার আমাকে বলেছিলেন, আজ যদি তোমাকে অনুমতি দিই, তাহলে তুমি কোনো দিনই শৃঙ্খলার মূল্য বুঝবে না। এরপর আমি এক বছর নিয়মিত ক্লাস করেছি এবং পরের বছর পরীক্ষা দিয়েছি। সেদিনই আমি বুঝেছি, জীবনে বড় হতে হলে শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।'

কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা

নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, ব্যারিস্টার হয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন। এই আত্মবিশ্বাস ও চিন্তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার মধ্য দিয়েই।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার। এছাড়া বিভাগের শিক্ষক, অ্যালামনাই, বর্তমান ও নবীন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।