সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বৃহস্পতিবার সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশে ৫০টি তফসিলভুক্ত জাতিগোষ্ঠী রয়েছে এবং তাদের মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তথ্য
মন্ত্রী বলেন, এই পরিসংখ্যান জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে তফসিলভুক্ত ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকে গণনা করা হয়েছে।
জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চাকমা সম্প্রদায় সবচেয়ে বড়, যা মোট জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যার ২৯.২৯ শতাংশ বা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯ জন। মারমা সম্প্রদায় ১৩.৫৯ শতাংশ, যার জনসংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ জন। ত্রিপুরা সম্প্রদায় ৯.৪৯ শতাংশ বা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮ জন। সাঁওতাল সম্প্রদায় ৭.৮২ শতাংশ, যার সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ জনসংখ্যা
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতিগোষ্ঠীর সদস্য বাস করেন, যার সংখ্যা ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন। মোট জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যার ২২.৬০ শতাংশ রাঙ্গামাটি জেলায় বাস করেন, যার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪ জন। ২১.১৭ শতাংশ খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করেন, যার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ জন। বান্দরবানে দেশের জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ বা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৫ জন বাস করেন।
উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতিটি কেন্দ্রের একটি তলা জনগণের পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে, নাগরিকদের মধ্যে জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মাদকাসক্তি ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য গণগ্রন্থাগার হিসেবে সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংগীত ও চারুকলা চর্চা প্রচারের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নতুন জাতীয় পাঠ্যসূচিতে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র বিতরণ, স্কুল ও কলেজভিত্তিক নাট্যোৎসব আয়োজন এবং সৃজনশীল প্রতিভা প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিল্পকলা একাডেমিগুলো এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় তরুণদের সরাসরি সম্পৃক্ত করছে।
সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণে জমি বরাদ্দ
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমসাময়িক শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ এবং মুক্তচিন্তা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ইতিমধ্যে উত্তরা সেক্টর ১৭-এ একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ৪১ কাঠা জমি বরাদ্দ দিয়েছে।



