‘ওই যে হাঁস আপা আসছে’—রুমিন ফারহানার নির্বাচনী জয় ও বিএনপি বহিষ্কারের গল্প
রুমিন ফারহানা: হাঁস প্রতীকে জয়, বিএনপি বহিষ্কার ও সংসদ অভিজ্ঞতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার ঐতিহাসিক জয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন, যা সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত, সেখান থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি হাঁস প্রতীকে মোট ৫০,৫৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে ৩২,৫৭৯ ভোট পান।

দ্বিতীয়বার সংসদে, কিন্তু প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে

রুমিন ফারহানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হলেও, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবারই তার প্রথম সংসদে যাওয়া। একাদশ সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একাই সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার সরব উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে তাকে ভিন্ন পরিচিতি এনে দিয়েছে।

টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলোচনা

ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেন রুমিন। সেখানে তিনি বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক, প্রথম দিনের সংসদ অধিবেশনের অভিজ্ঞতা এবং আওয়ামী লীগের মতো বড় দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। উপস্থাপক তাকে আয়রন লেডি হিসেবে আখ্যা দেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপি বহিষ্কার ও আল্লাহর উপর ভরসা

১৭ বছর বিএনপির হয়ে সংসদে লড়াই করার পর দলটি তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিষ্কার করে। রুমিন বলেন, “এ জয়টা আমি আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছি। আমি আল্লাহকে বলেছি, আমাকে লজ্জিত করবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সংরক্ষিত কোটায় সহজেই সংসদে যেতে পারতেন বা বার্গেইনে মন্ত্রীও হতে পারতেন, কিন্তু মর্যাদার লড়াই লড়ছেন। নির্বাচনের দিন তিনি অনবরত দোয়া ও দরুদ পড়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনগণের দোয়া ও প্রকৃত সংযোগ

রুমিন বিএনপির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, কারণ দলটি মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি আপামর মানুষের দোয়ার অংশ হয়ে যান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নারীরা, যে যেই দল বা মতের হন, তারা আমার জন্য দোয়া করেছেন।” ভোটের আগে তিনি যেখানেই গেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দ্রুত সখ্য গড়ে উঠেছে। একটি শপিং মলের ওয়াশরুম ক্লিনার পর্যন্ত তাকে “ওই যে হাঁস আপা আসছে” বলে সম্বোধন করেছেন, যা তার জন্য বিশেষ অনুভূতির।

বহিষ্কারের রহস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বিএনপি কেন তাকে বহিষ্কার করল, এমন প্রশ্নে রুমিন বলেন, “এটার উত্তর আমার জানা নেই। যারা মনোনয়ন দিয়েছেন, তারাই বলতে পারবেন।” তিনি মনে করেন, এটি একটি অতি আবেগীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে, যা বিভিন্ন মানুষকে বিরক্ত করেছে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনিই বলতে পারবেন কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্নেহধন্য হওয়া সত্ত্বেও এই বহিষ্কার তাকে বিস্মিত করেছে।

নতুন সংসদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ

নতুন সংসদ নিয়ে রুমিন বলেন, অভিজ্ঞতা খারাপ না হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়, “অ্যাটলিস্ট ওয়ান থার্ড অব পপুলেশনকে বাইরে রেখে এ সংসদ গঠিত হয়েছে।” বেশিরভাগ সদস্য নতুন বা দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে ছিলেন, তাই সবকিছু খাপ খাইয়ে নিতে আরও সময় লাগবে বলে তিনি মনে করেন।