জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশে একমত সংসদের বিশেষ কমিটি
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কার্যক্রম শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে ৪০টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দায়মুক্তি অধ্যাদেশে ঐকমত্য
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে জারি করা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬’–এর বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। এটি সংসদে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবে বিশেষ কমিটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সেদিনই এসব অধ্যাদেশ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। পরবর্তীতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে।
আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া
আজ দুপুরে বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে অর্ধেকের কম হবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ের ওপর দু-একজন সদস্যের কিছু মতামত আছে। আমরা বলেছি সেগুলো পরবর্তী সভায় আলোচনা করার জন্য।’
কমিটির সভাপতি আরও জানান, আগামীকাল বেলা দুইটায় আবার বৈঠক শুরু হবে। সব কটি যাচাই–বাছাই শেষ না হলে আরও বৈঠক হবে। তারা আশা করছেন, আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দিতে পারবেন।
মন্ত্রীদের বক্তব্য
বৈঠকের মাঝপথে বের হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এক বৈঠকে ফয়সালা করা সম্ভব হবে না। আরও কয়েক দফা বৈঠকে বসতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক বিষয়ে একমত হওয়া গেছে। ‘জুলাই ইনডেমনিটি’র বিষয়ে সবাই পুরোপুরি একমত হয়েছে। যদি সংশোধনী আনতে হয়, সেটা পরে।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, তারা আলোচনার মধ্যে আছেন। তারা এগোচ্ছেন। কতটি বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে, তা এখন বলা যাবে না। যখন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, তখন বলা যাবে।
বিরোধী দলের অবস্থান
বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সদস্য বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে অধ্যাদেশে যেসব বিষয় এসেছে, তাতে তারা একমত। বৈঠকে আলোচনা হওয়া বেশির ভাগ অধ্যাদেশ সুপারিশ আকারে সংসদে উত্থাপনের বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে।
আলোচিত অধ্যাদেশসমূহ
প্রথম দিনের বৈঠকে নিম্নলিখিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়:
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ–সংশ্লিষ্ট ১টি
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়–সংশ্লিষ্ট ৫টি
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট ৪টি
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭টি
- ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি
- প্রবাসীকলাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১টি
- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ৩টি
- নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১টি
- বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ২টি
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি
- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ২টি
- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ৪টি
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২টি
- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়– সংশ্লিষ্ট ৫টি
তবে সব কটি অধ্যাদেশের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সদস্য বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু অধ্যাদেশ হুবহু রাখা, কিছু ক্ষেত্রে কিছু সংশোধন ও কিছু পরিবর্তন করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বৈঠকে আরও আলোচনা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
এই নেতা আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩-৩৫ করা যায় কিনা, তারা সে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে আলোচনা করে এটি ৩২ বছর রাখার বিষয়ে কমিটি একমত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ-২০২৫ হুবহু রাখার বিষয়ে কমিটি একমত হয় বলেও তিনি জানান।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।



