কুষ্টিয়ায় জামায়াত এমপির স্বজনদের বিরোধে পুলিশের গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের স্বজনদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এলংগীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশের গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা গেছে, এমপি আফজাল হোসেনের দুই চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও শিপলুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে, পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর গতকাল রাত ৮টার দিকে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে এমপির চাচাতো ভাই আনোয়ার, শিপলু এবং তাদের সহযোগীরা রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করেন। এই হামলায় পুলিশের গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাচ ভেঙে যায়। ওসি জামাল উদ্দিন জানান, "আমরা বিরোধ মেটাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কেন আমাদের ওপর হামলা করা হলো, তা বুঝতে পারছি না। আইন সবার জন্য সমান, এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা তৎপর রয়েছি।"
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
ঘটনার পর থেকে আনোয়ার হোসেন ও শিপলুর পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমপি আফজাল হোসেনের ভাতিজা রবিউল ইসলাম দাবি করেন যে, পারিবারিক বিরোধের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ এলাকায় এলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে।
এমপি আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, এক ব্যক্তি আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জানান যে এমপি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, তারা ঘটনাটির তদন্ত জোরদার করেছে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের স্বজনদের এই বিরোধ এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পুলিশের গাড়িতে হামলার এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, এবং তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আইন ভঙ্গকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



